Indranil Sen: দুর্গাপুজোতেও ‘দুর্নীতি’? এবার UNESCO-র নাম ভাঙিয়ে টিকিট বিক্রির অভিযোগ ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে
Indranil Sen Durga Puja controversy: আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শদাতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের (Joydeep Mukherjee) অভিযোগ, ২০২২ সালে হঠাৎ করে একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার প্রেসিডেন্ট মধুছন্দা সেন অর্থাৎ ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী। ওই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, ইউনেস্কো তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, পার্টনার হয়েছে।

কলকাতা: গানে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ আগেই উঠেছে। এবার দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ উঠল সঙ্গীত শিল্পী ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) বিরুদ্ধে। আর সেই দুর্নীতিতে নাকি তাঁর যথার্থ ‘সঙ্গিনী’ তাঁর সহধর্মিণীও। অভিযোগ, ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে চড়া দামে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি করতেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। বেআইনিভাবে প্রিপুজোর টিকিট বিক্রি (Pre Puja Ticket) করত মন্ত্রীর স্ত্রীয়ের সংস্থা। সম্প্রতি, ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার পরামর্শদাতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী ছাড়াও দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে আরও তিনজনের।
ঠিক কী অভিযোগ?
আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শদাতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের (Joydeep Mukherjee) অভিযোগ, ২০২২ সালে হঠাৎ করে একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার প্রেসিডেন্ট মধুছন্দা সেন অর্থাৎ ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী। ওই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, ইউনেস্কো তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, পার্টনার হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়, ইউনেস্কো ২৪টা দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু, তা একেবারেই মিথ্যে। তাঁর দাবি, একটা দুর্গাপুজোর উপর ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুয়ো।
জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন,” ২০২২-২৩ সাল নাগাদ আমরা প্যারিস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করি, দিল্লি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর তরফে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমার সঙ্গে ৪৫ মিনিট ফোনে কথা হয়।” তাঁর দাবি, ইউনেস্কোর তরফে তাঁকে জানানো হয়, কোনও সংস্থার সঙ্গে তাঁরা কোনও চুক্তি করেনি। এটা বড় আর্থিক দুর্নীতি হচ্ছে।
শুরুটা কবে থেকে?
২০২১ সালে বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পায়। অভিযোগ, তার ঠিক এক বছর পরই ওই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। মূলত, ওই সংস্থা প্রিপুজো ও প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি করত। মূলত, কলকাতার ২৪টি পুজোকে বেছে নেওয়া হত। তারপর একটি মিউজ়িয়ামে ওই পুজোর গুলোর শিল্পকর্মের থিম আগেভাগেই দেখানো হত। আর এই প্রদর্শনীর জন্য টিকিটেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ওই সংস্থা দাবি করেছিল, ইউনেস্কো ও তাঁদের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এখন অভিযোগ উঠছে ইউনেস্কো এরকম কোনও প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্তই ছিল না। জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের আরও দাবি, তিনি এতদিন ভয়ে অভিযোগ করতে পারেননি।
আরও অভিযোগ, এই সংস্থা যে পুজোগুলো বেছে নিত, সেই পুজোগুলোই অ্যাওয়ার্ড পেত। বড় বড় স্পনসর পেত। গত তিনবছর ধরে কোটি কোটি টাকার টিকিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও তিন কোটি, চার কোটি, পাঁচ কোটি। সামান্য সিঁকিভাগ পেয়েছে পুজো ক্লাবগুলি, বাকি টাকা ওই সংস্থা অর্থাৎ ইন্দ্রনীল সেনদের পকেটেই ঢুকত বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল সেন।
কী বললেন ইন্দ্রনীল?
প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন,”কে অভিযোগ করেছেন, তার নাম কোনওদিন শুনিনি। আমার পরিচয়ও নেই। আমি কোনওদিনই কোনও পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, থাকিওনি। একেবারে ভিত্তিহীণ অভিযোগ।…আমার স্ত্রী একজন শিল্পী ও ফটোগ্রাফার। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলেই সব কাগজ পেয়ে যাবেন। প্রয়োজনে আগামী দিনে আইনি পদক্ষেপ করব।”
অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার (CP), রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) এবং কলকাতার বৌবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নিজেদের দাবির সপক্ষে প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথিও পুলিশকে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
