
কলকাতা: পুজোর মুখে বনগাঁয় সিপিএমের (CPIM) বুকস্টল ঘিরে আইনি টানাপড়েন অব্যাহত। পঞ্চমীর দিনই বুকস্টল বসানোর অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। কিন্তু সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করল রাজ্য সরকার। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য। জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার অনুমতিও দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
বৃহস্পতিবার বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টল বসানোর অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পুজোমণ্ডপের ১০০ মিটারের মধ্যে বুকস্টল বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বুকস্টল তৈরি কিংবা চালানোর সময় যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। আদালতের নির্দেশ মেনে বুকস্টল তৈরি হয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত রিপোর্টও পুলিশ সুপারকে জমা দিতে বলা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল ২৩ নভেম্বর।
তবে সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশে আপত্তি রাজ্যের। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানানো হয়েছে। জরুরি শুনানির অনুমতি মিলেছে। শুক্রবার, ষষ্ঠীর দিন সকাল ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ বসার কথা রয়েছে। সেখানেই রাজ্যের আবেদনের শুনানি হবে।
দুর্গাপুজো উপলক্ষে বনগাঁ ও নৈহাটিতে দু’টি বুকস্টল বসানোর আবেদন জানিয়েছিল বামেরা। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। সেখান থেকে আইনি সংঘাতের শুরু। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিচে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক দল বইয়ের স্টল বসাতে চাইলে তাতে আপত্তির কারণ কী? বলেন, “সেখানে কি কোনও বড় পুজো আছে? তাহলে কী সমস্যা। ওখানে আর কেউ স্টল দিয়েছে?” অন্যরা অনুমতি পেলে সিপিএম কেন পাবে না, সেই প্রশ্নও ওঠে আদালতে।
রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানান, যে জায়গায় সিপিএম বুকস্টল বসাতে চাইছে, সেটি পূর্ত দফতরের অধীনে। ফলে সেখানে কোনও অস্থায়ী নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু সিপিএম পূর্ত দফতরের কাছে আবেদন না করে মহকুমাশাসকের কাছে অনুমতি চেয়েছে বলে রাজ্যের দাবি।
রাজ্যের তরফে অনুমতির প্রসঙ্গ তোলা হলে বিচারপতি বলেন, “সেখানে কি কোনও বড় পুজো আছে? তাহলে কী সমস্যা। ওখানে আর কেউ স্টল দিয়েছে?”