
কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলায় লড়াইটা ছিল মূলত দুই দলের মধ্যে। তৃণমূল ও বিজেপি। ইচ্ছাকৃতভাবেই এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের কথা প্রচার করা হচ্ছে বলে বারবার সরব হয়েছে বামেরা। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল বলছে, বাংলায় লড়াই হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই। বামেরা সেখানে শূন্য থেকে এক হয়েছে। কিন্তু, বাংলায় পালাবদল হতেই কি ‘পুনরুত্থানের’ স্বপ্ন দেখছে সিপিএম? ফলতায় পুনর্নির্বাচনে তৃণমূলকে পিছনে দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম উঠে আসতেই মহম্মদ সেলিমের মুখে হাসি দেখা গেল। এদিন ফলতার ফল বেরনোর পর তিনি বলেন, “বাংলায় গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থারও পুনরুত্থান হবে।”
ফলতায় পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪টি ভোট। ভোটগ্রহণের ২ দিন আগে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তিনি পেয়েছেন ৭৭৮৩ ভোট। রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শম্ভুনাথকে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে পরাজিত করেছেন।
কী বললেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম?
ফলতায় তৃণমূলকে পিছনে ফেলে সিপিএম দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার পর সেলিম বলেন, “ফলতায় আমাদের প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি, আমাদের কর্মী এবং তার সঙ্গে ওখানকার সাধারণ মানুষকে আমি নতমস্তকে লাল সেলাম জানাব। অভিনন্দন জানাব। তৃণমূল আরএসএসের একটা সাজানো বাহিনী ছিল। তারা মস্তানি, গুন্ডামি করে যা করেছে, সেখানে মানুষ তার মত দিতে পারত না। মানুষের যদি মত দেওয়ার সুযোগ থাকে এবং গণতন্ত্রকে যদি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি, তা হলে সেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থারও পুনরুত্থান হবে। এটা ফলতার ফল দিয়ে বোঝা যাচ্ছে।” ভিডিয়ো এই বার্তার শেষে সেলিমের হাসিমুখ লক্ষ্য করা গিয়েছে। বামেদের আশা, তৃণমূলকে পিছনে ফেলে শীঘ্রই প্রধান বিরোধী হয়ে উঠবে তারা।