
কলকাতা: বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। মনোরম পরিবেশ। দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা বাংলা। কলকাতা থেকে জেলা। মহাষ্টমীর বিকেল থেকেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। সময় যত গড়িয়েছে, ভিড় তত বাড়ছে মণ্ডপগুলিতে। শহরের বড় প্যান্ডেল থেকে শুরু করে পাড়ার ছোট মণ্ডপ—সর্বত্রই দর্শনার্থীদের ঢল। প্রতিমা দর্শন, আলোর রোশনাই আর বাহারি মণ্ডপসজ্জা দেখতে রাস্তায় নেমেছেন অসংখ্য মানুষ। এদিকে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় পুলিশও। সতর্কতামূলক সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার মহাষ্টমীর সকালে অঞ্জলি। কুমারী পুজো। বেলুড় মঠে কুমারী পুজো দেখতে ভিড় করেছিলেন বহু মানুষ। আর বিকেল গড়াতেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে উপচে পড়ে ভিড়। কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্রই দুর্গাপুজোকে ঘিরে উৎসবের মেজাজ তুঙ্গে।
কলকাতার নামী পুজোগুলিতে ভিড় সামলাতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে আয়োজকদের। কোথাও লম্বা লাইন, কোথাও আবার দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে ব্যস্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা। পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েছেন আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষ। বন্ধুদের সঙ্গে প্যান্ডেল হপিংয়েও মেতেছেন অনেকে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহনের চাপ বাড়ায় বেশ কিছু জায়গায় ধীরগতিতে চলছে যান চলাচল।
শুধু কলকাতা নয়, জেলাগুলিতেও ছবিটা প্রায় একই। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে নদিয়া, বর্ধমান, দুই মেদিনীপুর—সর্বত্রই পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। উত্তরবঙ্গেও পুজো মণ্ডপগুলিতে একই ছবি। কোথাও সাবেকি প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জা, কোথাও আবার থিমের অভিনবত্ব টানছে মানুষের নজর। আলোর সাজে ঝলমল করছে শহর থেকে মফস্সলের অলিগলি।
মহাষ্টমীর অঞ্জলি দিতে সকাল থেকেই বহু মানুষ ভিড় জমান পুজো মণ্ডপে। দুপুরের পর থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা নামতেই ভিড়ের পারদ চড়েছে আরও কয়েক গুণ। উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে আট থেকে আশি।
তবে ভিড়ের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মহাষ্টমীতে কলকাতা থেকে জেলা—বাংলার আকাশে-বাতাসে এখন শুধুই পুজোর আমেজ, আর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে জনজোয়ার।