
কলকাতা: শহর থেকে শহরতলি, উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ। পুজোর চারদিন ঠাকুর দেখার জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। এবার এক বাসে চেপেই দেখতে পারবেন কলকাতার সব নামী পুজোগুলি। ধরুন, আপনি একদিনে কলকাতার বেশ কয়েকটি বিখ্যাত পুজো মণ্ডপে ঘুরতে চাইছেন। সেক্ষেত্রে, এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাওয়ার জন্য বারবার বাস-ট্রাম-ট্রেন বা মেট্রো করার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ এক বাসে চেপেই আপনি দেখে নিতে পারবেন নামী পুজো গুলি। বিশেষ করে বনেদি বাড়ি ও নামী সাবেকি পুজোর জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করছে পরিবহন দফতর। কোন কোন রুটে হবে এই পরিক্রমা? ভাড়াই-বা কত, জেনে নিন
উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক বনেদি বাড়ির পুজো ঘোরানোর জন্য সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে এসপ্ল্যানেড বাস টার্মিনাস থেকে সকাল ৮টায় ভলভো এসি বাস ছাড়বে। এই পরিক্রমায় বদন চন্দ্র রায় বাড়ি, বাগবাজার হালদার বাড়ি, বেলুড় মঠ, শোভাবাজার রাজবাড়ি, ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাড়ি, রানী রাসমণির বাড়ি, বেহালা রায় বাড়ি, সোনার দুর্গা বাড়ি এবং সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো দেখানো হবে।
এই পরিষেবার জন্য জনপ্রতি ভাড়া ২,৪০০ টাকা। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের জন্য ভাড়া ১,৮৫০ টাকা। পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য কোনও ভাড়া লাগবে না।
শহরতলির বাসিন্দাদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে সকাল ৮টায় বারাসাত কলোনি মোড় থেকে ভলভো এসি বাস কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবে। মানিকতলা, কুমারটুলি, শোভাবাজার, চোরবাগান, জোড়াসাঁকো, জানবাজার, রানী রাসমণি বাড়ি এবং ঠনঠনিয়া-সহ একাধিক বনেদি বাড়ির পুজো ঘোরানো হবে। জনপ্রতি ভাড়া ২,৫০০ টাকা। ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের জন্য ভাড়া ১,৯০০ টাকা।
কলকাতার জনপ্রিয় বারোয়ারি পুজোগুলির জন্য সপ্তমী ও নবমীতে এসপ্ল্যানেড এবং বারাসত থেকে সকাল ৯টায় বিশেষ বাস ছাড়বে। একডালিয়া, সিংহী পার্ক, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, মুদিয়ালি, শিবমন্দির, মহম্মদ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, বাগবাজার সর্বজনীন এবং বাগবাজার পল্লির মতো পুজো ঘোরানো হবে। এসপ্ল্যানেড থেকে জনপ্রতি ভাড়া ২,৪০০ টাকা এবং বারাসত থেকে ২,৫০০ টাকা।
শহরতলি থেকে কলকাতার বারোয়ারি পুজো দেখার জন্য বিশেষ সিএনজি বাসও চালানো হবে। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন সিটিসি টার্মিনাস, টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো এবং ডানলপ মোড় থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বাস ছাড়বে। জনপ্রতি ভাড়া এক হাজার টাকা।
ব্যারাকপুর থেকে সকাল ৮টায় ছাড়বে বিশেষ বাস। যার ভাড়া ১,১০০ টাকা। সপ্তমীর দু’দিন এবং নবমীতে নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে যাত্রীদের তুলে পুজো দেখিয়ে ফের সেখানেই নামিয়ে দেওয়া হবে।
পুজো পরিক্রমায় শুধু ঠাকুর দেখাই নয়, দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে খাবারের ব্যবস্থাও। জলখাবার, পুরনো দিনের হারিয়ে যাওয়া বাঙালি খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ, চা এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে। প্রত্যেক দর্শনার্থীর সঙ্গে সচিত্র পরিচয়পত্র রাখা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি বাসে থাকবেন একজন করে যাত্রী সহায়ক। পাশাপাশি রাখা হচ্ছে বিশেষ চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থাও।