
কলকাতা: মুর্শিদাবাদ রেল স্টেশনের পরিচালন ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিল পূর্ব রেল। রবিবার মুর্শিদাবাদ স্টেশনে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্য সরকারের গণশিক্ষা ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। সেখানে তিনি স্টেশনের পরিচালন ব্যবস্থা, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং রেলকর্মীদের একাংশের কাজের অনিয়ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের তালিকায় রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-এর কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও কড়া প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মন্ত্রীর উত্থাপিত অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে শিয়ালদহ ডিভিশনের অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (অপারেশনস)-এর নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করেছে পূর্ব রেল। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত অভিযোগ নিরপেক্ষ ও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ার পর রেলের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। পূর্ব রেল জানিয়েছে, যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও সঠিক জবাবদিহি বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রসঙ্গত, রেলের জমি বেআইনিভাবে টেন্ডার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে কাগজ দেখতে চেয়ে পান না মন্ত্রী গৌরীশংকর। কাগজ দেখতে না পেয়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে তীব্র বচসাও হয়। ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে বসে মদ্যপান করার অভিযোগ উঠেছিল স্টেশনে। অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ জংশন রেলওয়ে স্টেশনে, সরকারি মূল্যের থেকেও অত্যাধিক মূল্যে দালালের মাধ্যমে তৎকাল টিকিটে বিক্রি ও রেলের বাগান ও জমি টেন্ডার ছাড়াই লিস্ট দিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে। সেই সমস্ত জমির টেন্ডারের নথি দেখতে চেয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শংকর ঘোষ। দু’দিন পরে দেখাবো বললেও সেই নথি দেখায়নি স্টেশন মাস্টার। দেড় মাস কেটে গেলেও সেই নথি দেখতে না পেয়ে রবিবার সকালে স্টেশনে হাজির হয় অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দফতরের মন্ত্রী গৌরী শংকর ঘোষ।
তার আগে গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে গোবিন্দপুর রেলগেটে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে। নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন একটি স্কুল পড়ুয়া বোঝাই পুলকার (পুল কার)-কে ধাক্কা মারে। ঘটনায় ২ স্কুল পড়ুয়া-সহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়। : স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, লেভেল ক্রসিং বা রেলগেট খোলা থাকায় (গেটম্যানের গাফিলতিতে) ট্রেনটি চলে আসে এবং পার হওয়ার সময় পুলকারটিকে ধাক্কা মারে। রেলের পক্ষ থেকে গেটম্যানকে গ্রেফতার করে। তখন চরম অব্যবস্থা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসে।