
কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালো টাকা সাদা করতে কি রিয়েস এস্টেটে লগ্নি করা হয়েছিল? সুজিত বসুর গ্রেফতারি মামলায় আদালতে তেমনই ইঙ্গিত দিলেন ইডি-র আইনজীবী। সুজিত বসুর রহস্যজনক লেনদেনে’ নজর রয়েছে ইডির। মঙ্গলবার ইডি বিশেষ আদালতে ইডি-র আইনজীবীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, স্বভূমি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে লেনদেনের হদিশ মিলেছে। একাধিক ভুয়ো সংস্থা ও জমিতে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে।
এদিন ইডি-র তরফে আদালতে সওয়াল করলেন আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “কোভিডের সময় সুজিতদের রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকলেও কোটি টাকার উপর লেনদেন হয়েছে। সুজিত প্রভাবশালী ছিলেন, এখন উনি ছাড়া পেলে তদন্ত প্রভাবিত করবেন বলে ইডির আশঙ্কা।”
ইডি-র তরফে আইনজীবী জানান, প্রথমে সুজিত বসু সমনে সাড়া দেননি, পরে হাইকোর্টে যান। সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিচ্ছেন না। অসহযোগিতা করেন। ইডির আইনজীবীর বক্তব্য, “সুজিত বসু ছাড়া পেলে অন্যদের সতর্ক করে দেবেন, উনি প্রভাবশালী ছিলেন। তদন্ত ব্যহত হবে। উনি সাক্ষ্য প্রমাণ প্রভাবিত করতে পারেন।” সুজিতের ১০ দিনের হেফাজত চায় ইডি।
এদিন আদালতে উঠে আসে অয়ন শীলের প্রসঙ্গও। তিনি আদালতে জানান, অয়ন শীলের কাছে থেকে যেসব ডিজিটাল তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে সুজিত বসু সাউথ দমদম মিউনিসিপ্যালিটিতে একাধিক চাকরিপ্রার্থী সুপারিশ করেছেন। উঠে আসছে নিতাই দত্তের নামও। বেনামি লেনদেন সহ পরিবারের নামে যে সব সম্পত্তি করেছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে। সুজিত বোস এবং পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা ডিপোজিটের হিসাব দেয় ইডি।
ইডির আইনজীবী দাবি করেন, দুর্নীতির টাকা চাইনিজ কুইজিনের রেসটুরেন্ট, বেঙ্গল ধাবা এবং অপর একটি রেস্টুরেন্টে ক্যাশ ডিপোজিট হয়েছে। এখানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডি-র দাবি, লকডাউনের সময় ১.১১ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছিল। কোভিডের সময় রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল, কর্মচারীরা বাড়ি চলে গিয়েছিল। তবুও
কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে। গোটা বিষয়টিকে মানি লন্ডারিং বলে দাবি করেছে ইডি।
ইডি-র আরও দাবি, ধাবা বন্ধ থাকলেও ২.২ কোটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। সুজিতের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির টাকা লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে যার কোনও আইনগত যোগাযোগ বা কারণ পাওয়া যায়নি।
তবে এসবের পরেও সুজিত বোসের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানা। সুজিতের আইনজীবীর বক্তব্য, উনারা যে নথির উপর ভিত্তি করে সুজিতকে গ্রেফতার করেছেন, সেই সব নথি ২০২২-২৩ এর মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। তাহলে ২০২৬ সালের মে মাসে এসে কেন? ২০২২ এর যে বয়ান নেওয়া হয়েছিল, তার উপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সুজিতের আইনজীবীর বক্তব্য, “উনারা তদন্তের জন্য নয় অন্য কোনও কারণে গ্রেফতার করেছেন। উনারা বলছেন তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন, ২০২২ থেকে তো তদন্ত চলছে তদন্ত তখনও প্রভাবিত করিনি।” ইডি-র আইনজীবী তখন বলেন, “আমরা তো সব জান্তা নই। একেক ধাপ এগোতে এগোতে ছবিটা পরিষ্কার হয়েছে। ভিত শক্ত না করলে বলা হত তদন্ত না করে গ্রেফতার করে নিল।”
সিবিআই-এর আইনজীবী এও উল্লেখ করেছেন, ইডি-র চার্জশিট দিয়েছে, তাতে সুজিত বসুর নাম নেই। তদন্তের এই পর্যায়ে, ইডির যে আইনগত ক্ষমতা রয়েছে তাতে শুধু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি গ্রেফতার করে হেফাজতে নিতে পারে কিনা তা নিয়েও সওয়াল করেন সুজিতের আইনজীবী । কারণ আইন আনুযায়ী কোনও অভিযুক্তকে ‘গিল্টি’ মনে করার পর্যাপ্ত কারণ থাকলে, তাকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। কিন্ত সুজিতের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে উনাকে হেফাজতে নিয়ে তারপর জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
ইডি আইনজীবী তখন বলেন, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাকে যে মূল অভিযোগের ক্ষেত্রেই গ্রেফতার হতে হবে, বা সেই মামলায় গ্রেফতার না হলে ইডি তদন্ত করতে পারবে না, এরকম কোনও ব্যাপার নেই। সুজিত বসুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে ইডি-র আইনজীবী জানান। সওয়াল জবাব শেষ হয়েছে, তবে বিচারক এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দেশ দেননি।