
কলকাতা: এখনও অধরা কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদার গ্রেফতার হলেন ইডির হাতে। রবিবার সান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথেই অবশ্য তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভর্তি করতে হয় আরজি কর হাসপাতালে।
এদিন সাতসকালে বেহালায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। কয়েকদিন আগে এই বাড়ি থেকেই ইডি ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল। যেদিন এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়, সেদিন সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল অস্ত্র। এদিন জয় কামদারের বাড়ির পাশাপাশি স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও ইডি হানা দেয়।
সকাল ১১টা নাগাদ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন ইডি আধিকারিকরা। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জানা যায়, সোনা পাপ্পুর মামলায় টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
গ্রেফতারের পর ব্যাঙ্কশাল আদালতে নিয়ে আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন জয় কামদার। তড়িঘড়ি তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি করা হয় তাঁকে। আদালতে পেশ করতে না পারায় ইডির তরফে এদিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে ধৃত ব্যবসায়ীর জেল হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন নজরদারির জন্য দু’জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রাখার আবেদন জানানো হয়।
জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের পর থেকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন জয় কামদার।এদিন আদালতের ইডির তরফে বলা হয়, “আমরা গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই অসুস্থতার জন্য আদালতে পেশ করা গেল না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যা অভিযোগ, তাতে হেফাজতে নিয়ে জেরা প্রয়োজন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সর্বক্ষণ ইডি অফিসারদের নজরদারির জন্য থাকার প্রয়োজন।” একইসঙ্গে ইডির তরফে বলা হয়, ধৃত ব্যবসায়ী জেরায় মুখ খোলেননি। কিন্তু, ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স থেকে অন্যান্য নথিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগ পাওয়া যাচ্ছে।
ধৃত ব্যবসায়ীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে ইডি নিয়ম মেনে গ্রেফতার করেনি। তখন ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী বলেন, “আমরা অভিযুক্ত পক্ষকে স্পষ্ট জানিয়েছি কী কী কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
দু’পক্ষের সওয়ালের পর জয় কামদারকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত জেল হেফাজতে হাসপাতালে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। ইডি নজরদারির জন্য গার্ড (বাহিনী) রাখতে পারবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামিকাল হয় অভিযুক্তকে সশরীরে পেশ করতে হবে। নাহলে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পেশ করতে হবে।