
কলকাতা: বাংলায় আসার পর থেকেই ফুল ফর্মে ফুল বেঞ্চ। সারাদিনের বৈঠক শেষে ফের একবার বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। জেলা শাসকদের বৈঠকে ফের বার্তা কমিশনের। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে হবে। কোনও বোমা পিস্তলের খবর যেন না থাকে নির্বাচনে। পরিষ্কার জানাল কমিশন।
আজ সকালে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেখান থেকে তিনি বলেছিলেন, “অন্য রাজ্যে এত হিংসা দেখা যায় না। বাংলাতেই কেন ভোটের সময় এত অশান্তি? সব রাজনৈতিক দলগুলি আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। এবার এই সব চলবে না।” এরপর বেলাশেষে কমিশনের নির্দেশ, যথাসম্ভব বাজেয়াপ্ত করতে হবে বোমা, পিস্তল। আজ ডিএম (DM),এসপি (SP) ও সিপিদের (CP)-দের কড়া বার্তা দিয়েছেন দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ না মানলে শুধু ‘OUT’ নয় ডিপার্টমেন্টাল প্রসেডিংস (DP) এর মুখে পড়তে হবে। শুধু কড়া নির্দেশই নয়, জেলায় কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সরাসরি প্রশ্নও করেছেন কমিশনের আধিকারিকরা। ভোটে হিংসা বা ভোটের পর হিংসা কোনও ভাবেই যাতে না হয় নির্দেশ জ্ঞণেশ কুমারের। একই সঙ্গে ভুয়ো সংবাদ দেখলে এফআইআর করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ দিন যখন এসপি-ডিএম ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক চলছিল। সূত্রের খবর, সেখানে এডিজি আইন-শৃঙ্খলা বীনিত গোয়েলকে কড়া ধমক দেন তিনি। নার্কোটিক্স অ্যাডভাইজারি বোর্ড নেই কেন সেই প্রশ্নের উত্তর শোনার পরই ক্ষুব্ধ জ্ঞানেশ বলেন, “ভুল দেখলে প্রাতঃরাশের দাওয়াই দেওয়া হবে।”
এ দিন, শুধু আধিকারিক নয়, একই সঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও বৈঠক করেছে কমিশন। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টচার্যের দাবি, তাঁর উপর চিৎকার করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সূত্রের খবর এ দিন, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের দায়ের করা এসআইআর মামলার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “শীর্ষ আদালতে আপনারা মামলা করেছেন, এখন ষাট লাখের ভবিষ্যৎ আমায় জিজ্ঞেস করছেন?” পরবর্তীতে এর উত্তর দিতে গিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, “আমাকে বলেছে, আপনারা তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন… যাব না কেন? আমাদের অধিকার আছে। মানুষের জন্য গিয়েছি। আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, বেশ করেছি।”