Suvendu Adhikari: ‘এনাফ ইজ় এনাফ!’ আর ১ সপ্তাহ! ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কোন বিধায়ককে ‘ডেডলাইন’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

Suvendu Adhikari warns Humayun Kabir: প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, "এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন।"

Suvendu Adhikari: এনাফ ইজ় এনাফ! আর ১ সপ্তাহ! ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কোন বিধায়ককে ডেডলাইন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Jun 29, 2026 | 2:07 PM

সৌরভ গুহ:  সবক শেখানোর সময় এসেছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি দিলেন হুঁশিয়ারিও। বললেন, ‘এনাফ ইজ় এনাফ’। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর  দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ যোগাযোগ করেছিলেন।

‘এনাফ ইজ় এনাফ’

প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, “এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন।”

হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা? 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ টো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেজিনগরে কেস নম্বর ২১৯, ২২৬। BNS, 152, 192, 196,197, 224, 299, 351 (2), 352, 353 ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।  দ্বিতীয় ঘটনাতেও শক্তিপুর থানায় BNS ১৭৬/২২৬ এ  মামলা রুজু রয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের এজেন্ডা কী?

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি।” কেন হুমায়ুন কবীর এই ধরনের কথা বলছেন? তাঁর এজেন্ডা কী, সেটাও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনি কেন এসব করছেন আমি জানি। আপনার প্রথম এজেন্ডা ছিল ভরতপুর-রেজিনগর-নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত ভেঙে আপনার পার্টিতে নিয়ে যাওয়া। আপনি সেটা করতে পারছেন না। দ্বিতীয়, ২টো সিটে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগরে রিজাইন করেছেন। ২-৩ মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে, আপনি আপনার ছেলেকে জিতাতে চাইছেন। ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। আর সেটাকে টানতেই এই খেলাটা খেলছেন।”

‘এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন’

হুমায়ুনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না—দেব না—দেব না।” আর এক্ষেত্রে তিনি তিনটে উদাহরণও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সন্দেশখালিতে একজন ছিল, জীবনতলার গুন্ডা,আরেকজন পুষ্পা- এমন ঝুঁকেছেন, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে ওঠবোস করতে করতে যাচ্ছেন।”

আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। তিনি জানিয়ে রাখলেন, আগে তিনি যাঁরা হুমায়ুনকে ওই সভায় ডেকেছিলেন, তাঁদের কাছে যাবেন। পরে হুমায়ুনের কাছে যাবেন। তিনি আবারও বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গুন্ডাদের নয়।” শুভেন্দু বলেন, “এই ধরনের কথা বলার আগে এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন।”

কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর? 

২৬ জুন দুপুরে হুমায়ুন কবীর কাশীপুরের রেজিনগরে তাঁর দলীয় কর্মসূচিতে বলছেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে, আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে,  আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোক রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটা ভাঙা মার দেব আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন?”

শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে গত ২৮ তারিখে কথা বলার সময়ে বেশ কয়েকটি শব্দও প্রয়োগ করেছেন হুমায়ুন কবীর, যা অশ্রাব্য। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ।

মুখ্য়মন্ত্রীর বিবৃতি প্রসঙ্গে হুমায়ুন বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী কে কিছু বলিনি । কিছু তৃণমূলের গুণ্ডা এখন বিজেপি হয়েছে । ওদের নিয়ে বলেছি । জাহাঙ্গির, শওকত, শাহজাহানদের সঙ্গে আমার তুলনা হয় না । আমি ৪৫ বছর রাজনীতি করছি।”

Follow Us