Tangra Unnatural Deaths: ঋণ নিয়ে বিদেশভ্রমণ, কিনেছে গাড়ি! গলা অবধি করের বোঝার মাশুল গুনছে ট্যাংরার দে পরিবার?
Tangra Unnatural Deaths: বাজারে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকার কাছাকাছি করের বোঝা ছিল অভিজাত দে-পরিবারের দুই ভাইয়ের। এমনকি, ঘটনার দিন বাড়িতে পাওনাদারদেরও টাকা নিতে আসতে বলেছিলেন প্রণয়-প্রসূন।

কলকাতা: সাধারণভাবে যে কোনও আত্মহত্য়া বা খুনের ঘটনায় আর্থিক যোগ যে একটা বড় ফ্য়াক্টর তা বরাবরই বলে থাকেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। ট্যাংরা কাণ্ডের রহস্যের ‘খোসা’ যখন ছাড়াতে ছাড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে পুলিশ। সেই সময় রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে অন্যতম কারণ হিসাবে দানা বাঁধছে বিপুল করের বোঝা।
ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, বাজারে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকার কাছাকাছি করের বোঝা ছিল অভিজাত দে-পরিবারের দুই ভাইয়ের। এমনকি, ঘটনার দিন বাড়িতে পাওনাদারদেরও টাকা নিতে আসতে বলেছিলেন প্রণয়-প্রসূন। অন্তত ছয়টি ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য সংস্থার থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তারা। আর সেই বিপুল দেনা মেটাতেই কালঘাম ছুটে যাচ্ছিল তাদের। তবে কি সেই পাওনা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে খুন ও আত্মহত্য়ার ছক কষেছিলেন দুই ভাই?
পাওনাদারদের সূত্রে খবর, দুর্গা পুজোর পর থেকেই ব্যবসায় ক্ষতি হতে শুরু হয়েছিল প্রণয়-প্রসূনের। এছাড়াও বহুদিন ধরেই কাঁটা হয়ে বিঁধেছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। কিন্তু এত সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও এক নিমিষে সব কীভাবে শেষ হল এই দুই ভাইয়ের? জানা যায়, বাবার আমল থেকে শুরু হয় এই চামড়ার ব্যবসা। তখন থেকেই ফুলে ফেঁপে ওঠে দে পরিবার। কিন্তু জীবনযাপন ছিল সাধারণ। আর বাবা মারা যেতেই শুরু আসল খেলা।
বেলাগাম জীবনযাপন শুরু করে দুই ভাই। একদিকে বাড়ছে ব্যবসায় ক্ষতি, অন্যদিকে থামছে না অতি বিলাসবহুল জীবনযাপন। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই সময়কালে দু’বছর অন্তর গাড়ি বদল, বিলাসী বিদেশভ্রমণ শুরু করে দে পরিবার। ব্যবসায় লাভের অঙ্কের থেকে বেশি বাড়তে থাকা জীবনযাপন চালানোর খরচ। একটা সময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে ব্যবসায় ক্ষতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে, বিলাসবহুল জীবনযাপন বজায় রাখতে ঋণ নিতে শুরু করে তারা। আর তাতেই যেন ছিঁড়ে যায় সকল বাঁধ। গলা পর্যন্ত দেনায় ডুবে যায় দে-ভাই। আর তার জেরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে অনুমান পুলিশের।

