Cancer Drug Price: ক্যানসার রোগীদের একটু স্বস্তি দিল কেন্দ্র, খরচ কমাতে ৫৪৩টি ওষুধের দাম কমানোর ঘোষণা
Cancer Drugs: ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা থেকে শুরু করে পাইকারি বিক্রেতা ও দোকানদারদের মাধ্যমে ওষুধ রোগীদের কাছে পৌঁছয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ওষুধের দামের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে লাভের টাকা যুক্ত হয়। সেই লাভের মার্জিন নিয়ন্ত্রণ করেই ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

নয়া দিল্লি: ক্যানসার রোগীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৫৪৩টি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) ইতিমধ্যেই এই ওষুধগুলির সংশোধিত সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা ম্যাক্সিমাম রিটেল প্রাইজ (Maximum Retail Price) প্রকাশ করেছে। এর ফলে ক্যানসারের চিকিৎসায় ওষুধের খরচ অনেকটাই কমতে পারে।
কোন কোন ক্যানসারের ওষুধের দাম কমল?
কেন্দ্রের প্রকাশিত তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসারের ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
- অ্যানারজ়োল (Anarzole): স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যানাস্ট্রোজোল ওষুধের এই ব্র্যান্ডের ১ মিলিগ্রামের ১০টি ট্যাবলেটের দাম আগে ছিল ৬৯৫.৭৬ টাকা। এখন তা কমে হয়েছে ৭৩ টাকা।
- অ্যাজাসিটিডিন (Azacytin): ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের তৈরি ১০০ মিলিগ্রামের অ্যাজাসিটিডিন ইঞ্জেকশনের দাম ৬,৩৩৭ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১,৪৯৫.০৪ টাকা।
- বেভাসিজ়াব (Bevacizab): অ্যাবট হেলথকেয়ারের তৈরি ৪ মিলিলিটারের এই ইঞ্জেকশনের দাম ২১,৭৬৭.৭০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫,৯৩০.১৩ টাকা।
- দ্যাসানট (Dasanat 20): ডাসাটিনিব ওষুধের ৬০টি ট্যাবলেটের প্যাকেটের দাম ২,৮১২.৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১,০৮৫.৯৩ টাকা।
- ডেব্রুমাব (Debrumab 60 mg): ডেনোসুমাব ইঞ্জেকশনের প্রতি প্রি-ফিলড সিরিঞ্জের দাম ২২,০৩১.২৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫,৯৪১ টাকা।
- এনুটা (Enuta): আরপিজি লাইফ সায়েন্সেসের তৈরি এনজালুটামাইডের ২৮টি ক্যাপসুলের প্যাকেটের দাম ৬,৫৭৮.২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২,২৩২ টাকা।
- এরলিব (ERLIB): এরলোটিনিব ওষুধের ৩০টি ট্যাবলেটের বোতলের দাম ৪,৬৩৭.৪৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২,০০৮ টাকা।
- ফুলব্রেকা (Fulbreca): ফুলভেস্ট্র্যান্ট ইঞ্জেকশনের ৫ মিলিলিটারের ভায়ালের দাম ২৬,০৭২.১৬ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫,৪৯১ টাকা।
অর্থাৎ, বেশ কয়েকটি ওষুধের ক্ষেত্রে দামের বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে।
কেন ওষুধের দাম কমাল কেন্দ্র?
ক্যানসারের চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়। ওষুধ কেনার খরচ কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার এবার ওষুধের ব্যবসায়িক লাভের মার্জিন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নিয়মের আওতায় ১৩৭টি চিহ্নিত ক্যানসারের ওষুধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরো দামের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবসায়িক মার্জিন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সহজভাবে বললে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা থেকে শুরু করে পাইকারি বিক্রেতা ও দোকানদারদের মাধ্যমে ওষুধ রোগীদের কাছে পৌঁছয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ওষুধের দামের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে লাভের টাকা যুক্ত হয়। সেই লাভের মার্জিন নিয়ন্ত্রণ করেই ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য, রোগীদের কম দামে ওষুধ দেওয়া এবং ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ কিছুটা কমানো।
কোন কোন ক্যানসারের চিকিৎসার ওষুধ রয়েছে তালিকায়?
তালিকায় এমন কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলি ২০টিরও বেশি ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ইমিউনোথেরাপির কিছু ওষুধ।
এ ছাড়া ডেনোসুমাব, পেগফিলগ্রাস্টিম এবং বেভাসিজুমাবের মতো ওষুধও রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু স্তন ও প্রস্টেট ক্যানসারের রোগীদের চিকিৎসায় ডেনোসুমাব ব্যবহার করা হয়। ক্যানসারের চিকিৎসার সময় শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় সাহায্য করে পেগফিলগ্রাস্টিম। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট কিছু কোলোরেক্টাল, ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় বেভাসিজুমাব।
কবে থেকে কম দামে ওষুধ পাওয়া যাবে?
আগামী ৯ নভেম্বর থেকে ওষুধগুলির নতুন দাম কার্যকর হবে। এনপিপিএ (NPPA) জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই দাম প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাগুলি নতুন দামের তথ্য জমা দিলে তালিকাটি আপডেট করা হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, সব ক্যানসারের ওষুধের দাম এক হারে কমেনি। ওষুধের ব্র্যান্ড, ডোজ এবং প্যাকেটের আকার অনুযায়ী দাম আলাদা হতে পারে।
