
কলকাতা: সকাল ৬টা বেজে ৪৫ মিনিট। আচমকা বিস্ফোরণ। কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। পাইকপাড়ার যুবশক্তি ক্লাব। বহুদিন হল ক্লাবঘরটি পরিত্যক্ত। কেউ আসে না, কিন্তু এমন পরিত্যক্ত ঘরে বিস্ফোরণের কারণ কী? পরিত্য়ক্ত ঘরে রসায়নিক বিক্রিয়া নাকি রাখা ছিল বিস্ফোরক? প্রশ্ন তৈরি হয় এলাকাবাসীর মনে। কিন্তু সেই উত্তর খোঁজার আগে তাঁরা দেখেন, বিস্ফোরণের জেরে টিনের চাল ফেটে আগুন লেগে যায় পরিত্যক্ত ঘরটিতে। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় দমকলে। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরই বেলা গড়াতে আসে পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড।
পুলিশি তল্লাশিতেই জানা যায়, পরিত্যক্ত ক্লাবঘরের ভিতরেই বিস্ফোরক ও বোমার হদিশ পায় পুলিশ। ভোটমুখী বাংলায় পরিত্যক্ত ক্লাবঘরকে চিহ্নিত করে চলছিল বোমা মজুতের কাজ? আর যদি তাই হয়ে থাকে, তা হলে এই বোমার আমদানি করল কারা? সেই প্রশ্নে উত্তর এখনও অধরা। এদিন এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “পাঁচ-সাত বছর ধরে ক্লাবটি বন্ধ রয়েছে। সেখানেই বোমা রাখা। এখনও বেশ কয়েকটা বোমা রয়েছে। পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড এসেছে, তারা বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকমাস ধরেই ওই এলাকায় বহিরাগতদের যাতায়াত বেড়েছে। বেশ কিছু যুবক বাইরে থেকে এসে ওই ক্লাবঘরে নেশা করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি বিস্ফোরক মজুতের কোনও যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। রয়েছে স্নিফার ডগও। উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি তাজা বোমা। উল্লেখ্য, দোরগোড়ায় বাংলার নির্বাচন। সপ্তাহ কয়েকের মধ্য়ে ভোট ঘোষণা করে দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। তার আগেই খোদ শহর কলকাতায় এমন ঘটনা কার্যত চিন্তার বলেই মনে করছেন একাংশ। নির্বাচনকে অশান্তির মোড়কে বিঘ্নিত করতেই কি তা হলে শুরু হয়ে গিয়েছে বোমা মজুত?