
কলকাতা: রক্ষা কবজের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। আবেদনকারী জাহাঙ্গির খানের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মিথ্যা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাই তিনি সুরক্ষার জন্য আদালতে এসেছেন। অ্যাডভোকেট কিশোর দত্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। সোমবার দুপুর ২টায় এর শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাহাঙ্গির খানের শিবিরের দাবি, নির্বাচনের মুখে তাঁকে প্রচার থেকে দূরে রাখতেই এই আইনি জটিলতায় জড়ানো হচ্ছে। আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন কোনো সুরক্ষা দেয় নাকি তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়, এখন সেটাই দেখার।
নির্বাচনের আগে থেকেই ফলত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। এসআইআর-এর সময় থেকেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। অভিযোগ ছিল, বিএলও-র ওপর চাপ তৈরি করে মৃতদের নাম এসআইআর-এর তালিকায় তোলানোর চেষ্টা চলছে। সেক্ষেত্রে এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের নাম উঠে আসে। জাহাঙ্গির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই এলাকায় পরিচিত। এসআইআর পরবর্তী পর্যায়ে নির্বাচনের প্রাক লগ্নে এই এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। সেক্ষেত্রে অভিযোগের তির জাহাঙ্গিরের দিকেই থাকে।
এলাকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে কমিশন উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয় পাল শর্মাকে ফলতার বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করে। যিনি উত্তরপ্রদেশে ‘সিঙ্ঘম’ নামে পরিচিত। জাহাঙ্গিরের বাড়িতে এসে তিনি সতর্কও করে আসেন সিঙ্ঘম। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। শুরু হয় সিঙ্ঘম Vs পুষ্পার চ্যালেঞ্জ! কারণ সে সময়ে জাহাঙ্গির সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছিলেন, অজয় পাল শর্মা যদি সিঙ্ঘম হন, তাহলে তিনিও পুষ্পা! তাঁর কথায়, ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি!’ ভোটের দিন ফলতায় একাধিক বুথে EVM-এ সেলোটেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠে। সেক্ষেত্রে কমিশন গোটা ফলতা বিধানসভাতেই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করে। ২১ মে নির্বাচন, ২৪ মে ফল ঘোষণা।