
প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ: রাত পোহালেই বঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারা। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রীর সভার নিরাপত্তা দায়িত্বে এডিজি কোস্টাল থাকবেন। প্রায় ৩ হাজার বাহিনী মোতায়েন রাখা হচ্ছে লালবাজারের তরফে। ৪ থেকে ৫ টি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদা অফিসাররা। পাশাপাশি বেশ কিছু সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদা অফিসাররা।
লালবাজার সূত্রে খবর, প্রায় ৫০ টি পিকেট তৈরি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা থাকবে মঞ্চ সহ সংলগ্ন এলাকায়। নো- ফ্রাই জোন হবার জন্য ড্রোন থাকবে না কিন্তু বহুতল থেকে নজরদারি চালাবে পুলিশ।
এবারে প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চও বিশেষ ভাবে আলোচিত হচ্ছে। বাঙালিয়ানায় জোর দিতে এবার মোদীর । সভামঞ্চ তৈরি করা হয়েছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে। ২০ ফুট বাই ৭০ ফুট মঞ্চের মধ্যভাগে ভবতারিণী মন্দিরের প্রতিচ্ছবি। বরাবরই বিজেপিকে বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধী মনস্ক হিসাবে তৃণমূল বঙ্গবাসীর কাছে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে সেই ধারণাকেই বাংলার মানুষের কাছে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে চাইছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথায়, শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরই বঙ্গে মোদীর মুখে ‘কালী’র ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে। যেখানে লোকসভা নির্বাচনের আগেও ‘জয় শ্রী রাম’ উচ্চারিত হত, তার জায়গায় এবার ‘কালী’।
যদিও তৃণমূলের তরফ থেকে বারবার মোদীর মঞ্চকে থিম পুজো বলেই কটাক্ষ করা হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “ওটা রাজনৈতিক মঞ্চ না থিমপুজো?” এখানেই শেষ নয়। কুণালের আরও অভিযোগ, সভাপ্রাঙ্গন এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে মাঠ না ভরলেও, মনে হবে অনেক ভিড়। ঠিক কীভাবে তাঁর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কুণাল। নিজের সামাজিক মাধ্যমে সভাপ্রাঙ্গনে রাখা চেয়ারের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ” এমনভাবে জায়গা নষ্ট করে সাজানো হয়েছে যে ৪০ হাজার লোক এলে দেখে মনে হবে যেন কত লোক। মঞ্চ, ডি জোন, একদিক পুরো পার্কিং-এর জন্য ছাড়া। ৪২ হাজার চেয়ারের অর্ডার, ছড়িয়ে বসানো। লোক ভরবে না, জায়গা ভরবে। অন্য রাজ্য থেকে লোক আনা হচ্ছে ট্রেনে, বাসে, গাড়িতে। এরাজ্যের কুড়ি হাজার লোকও আসার সম্ভাবনা নেই।” শেষ আবার লিখেওছেন, ‘খবর বিজেপি সূত্রে।’
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সভা করার এক সপ্তাহের মধ্যেই সভা করেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সভার ভিড় প্রসঙ্গ উত্থাপন করে খোঁচা দিয়ে শোনা যায় অভিষেককে।