
কলকাতা: অভিষেকের সম্পত্তি পুরনিগমের স্ক্যানারে। আলোচনা না করেই নোটিস, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তেমনটাই দাবি করেছেন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্যুতে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদিও বিল্ডিং বিভাগ কী সিদ্ধান্ত নেবে, কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙবে, সেটা মেয়র স্থির করে না। পুরসভার কমিশনার পদাধিকার বলে এটা করতে পারেন।”
প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ টি সম্পত্তির খতিয়ান চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে পুরনিগম। অনুমোদন ও নির্মাণের সঙ্গতি যাচাইয়ে নোটিস দিয়েছে পুরনিগম। দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগাধ সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেন।
অভিষেকের কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে ক’টি সম্পত্তি রয়েছে, তার নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে সব কটি সম্পত্তিতে নোটিস গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি। এছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল রয়েছে।
কলকাতাপুরনিগম সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০০(১) ধারায় এই নোটিসটি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, শনিবার ফলতার নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী তোপ দেগেছিলেন, “ভাইপোবাবু আপনার প্রপার্টির লিস্টটা আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ২৪ টি প্রপার্টি কলকাতায়, আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস।” তারপরই নোটিস।
কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে, কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাট রোডের বাড়িটি ‘লিপস এন্ড বাউন্স’ এর নামে নোটিস দেওয়া হল? কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে দেওয়া হল না? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত লোকসভা নির্বাচনের হলফনামায় দাবি করেছিলেন, তাঁর বাড়ির ঠিকানা ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। যেটা খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। যে দুটি বাড়িতে তিনি থাকেন বা অফিস করেন, সেটা তাঁকে তাঁর কোম্পানি দিয়েছে। কোম্পানির নাম ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস’। যে কারণে নোটিস দেওয়া হয়েছে কোম্পানিকে। যে কোম্পানির কর্ণধার অভিষেক নিজেই! তাই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে নোটিস।