
কলকাতা: কলকাতা পৌরনিগমে ডামাডোল পরিস্থিতি। বরো চেয়ারম্যান দেবলীনা বিশ্বাসের পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই আচমকা বদলি করে দেওয়া হল পুরসভার সচিবকে। আর এই চরম উত্তেজনার আবহেই এবার কলকাতা পুরসভার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আচমকা উধাও হয়ে গেল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ছবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। তবে কি কলকাতার মেয়র পদ ছাড়ছেন ফিরহাদ হাকিম? নাকি এর পেছনে রয়েছে দলের কোনও কঠোর বার্তা? জল্পনা বাড়তেই বিতর্ক। তারপরই কমিশনার অফিস থেকে নির্দেশ যেতেই তড়িঘড়ি মেয়রের ছবি আবার ওয়েবসাইটে ফিরিয়ে আনা হয়।
রাজনৈতিক ও পুরসভা সূত্রে খবর, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিপর্যয়ের পর থেকেই পুরসভার কাজের ওপর ক্ষুব্ধ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে, তিলজলায় বুলডোজার চালানো থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানোর মতো একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরসভা ও মেয়রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, নেত্রীর এই বারবার ক্ষোভ প্রকাশে অত্যন্ত বিরক্ত খোদ ফিরহাদ হাকিমও। তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে নিজেকে ‘ব্যর্থ মেয়র’ হিসেবে দাবি করেছেন এবং এই পদ আর আঁকড়ে ধরে রাখতে চান না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার আচমকা পুরসভার ওয়েবসাইটের ডানদিকের ওপরে থাকা মেয়রের ছবি উধাও হয়ে যাওয়ায় জল্পনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার পেছনে মূলত দু’টি সম্ভাবনা দেখছেন। প্রথমত, ক্ষুব্ধ মেয়র নিজেই হয়তো ওয়েবসাইট থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, রাজ্যে বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায় আসায়, আইনি ও প্রশাসনিক রদবদলের জেরে কমিশনার ও মেয়রের টানাপোড়েনে এই ছবি সরানো হয়েছে, যা এক নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একদিকে বরো চেয়ারম্যানের ইস্তফা, অন্যদিকে পুর-সচিবের আকস্মিক বদলি এবং মেয়রের ছবি উধাও—সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার রাশ কার হাতে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।