
কলকাতা: বিয়ের সময় তাঁর স্ত্রীকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন সোনার নেকলেস। দুর্গাপুজোর সময় তাঁকে দিয়েছিলেন পায়জামা-পাঞ্জাবি। এবার সেই উপহার ফেরতের সিদ্ধান্ত কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের। আজই ফেরত দিচ্ছেন সেই উপহার। সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, এটাই সঠিক সময় উপহার ফেরতের।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল অন্দরে একটি সমান্তরাল অক্ষরেখা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন কাকলি। বিধানসভার পর সংসদীয় লোকসভাও ভাঙনের মুখে তৃণমূল। দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ২০ জন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব অস্বীকার করে আলাদা ব্লক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর যার নেতৃত্বে কাকলি। তিনিই মুখ।
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই এবার আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছেন কাকলির ছেলে পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ বৈদ্যনাথ ঘোষ। বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের টিকিট চাওয়া এবং পরিবারকে নিয়ে ব্যক্তিগত কুৎসার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র এবং নেত্রী সোনালী গুহকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তিনি। প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে এই নোটিশে।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে ইঙ্গিত করেছিলেন যে, এক সাংসদের পরিবারের সদস্য বারাসতের বিধানসভা টিকিট চেয়ে না পাওয়ায় দলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আইনজীবী পূজা শুক্লর মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে বৈদ্যনাথবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কখনওই বারাসত বা অন্য কোথাও ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। টিকিট না পেয়ে তাঁর মা ক্ষুব্ধ হয়েছেন— এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
পাশাপাশি, সোনালী গুহর তোলা একটি ব্যক্তিগত অভিযোগও তীব্রভাবে খণ্ডন করেছেন তিনি। সোনালী দাবি করেছিলেন, “বৈদ্যনাথ, তাঁর ভাই ও মা কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিয়মিত মদ্যপান করেন।” এই বক্তব্যকে চূড়ান্ত মানহানিকর ও কুৎসিত আখ্যা দিয়েছেন কাকলি-পুত্র। ভোটের মুখে খোদ সাংসদ-পুত্রের এই আইনি পদক্ষেপ আরও অস্তিত্ব বাড়ল তৃণমূলের।
উল্লেখ্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ‘বিদ্রোহী’ মনোভাব জেগে উঠতেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, সুদীপ নাকি কিছুদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গাড়ি চেয়েছিলেন। এহেন একের পর এক ঘটনায় মনে হচ্ছে, তৃণমূল অ্ন্দরে কি এই রেওয়াজও ছিল?