
কলকাতা: জল্পনা ও সম্ভাবনা আগে থেকেই ছিল। তাতে সিলমোহর দিয়েই বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরিও (Luizinho Faleiro)। তিনি একা ঘাসফুলে যোগ দেননি। রীতিমতো সদলবলে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দলে এসেছেন তিনি। বুধবার প্রথমে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন কংগ্রেস নেতা লুইজিনহো। এরপরই তৃণমূল ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। এই যোগদানের দ্বারা তৃণমূল যে কংগ্রেসের ঘরেও বড় আঘাত হানতে সক্ষম হল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি ত্রিপুরার পর আরেকটি ছোট রাজ্য়েও তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ পা বাড়াতে শুরু করল। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।
লুইজিনহো তৃণমূলে শামিল হওয়ার পরই পরপর তিনটি টুইট করে তাঁকে দলে স্বাগত জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাত বারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তৃণমূলে যোগদান গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। লুইজিনহো-সহ মোট ১০ জন এ দিন তৃণমূলে যোগদান করেন। আগামিকালও বেশ কয়েকজন তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন বলে খবর। ফলে গোয়া কংগ্রেস কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। কারণ লুইজিনহোর সঙ্গে এক বিধায়ক ও কংগ্রেস প্রদেশ কমিটির একাধিক সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকও যোগ দেন তৃণমূলে।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার তালিকায় যেমন প্রাক্তন বিধায়ক প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সম্পাদকেরা রয়েছেন, তেমনই সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত শিবদাস সোনু নায়েকও রয়েছেন। সুতরাং ত্রিপুরার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পরবর্তী টার্গেট যে গোয়া হতে চলেছে, তা এখন থেকেই স্পষ্ট। গোয়ায় বর্তমানে বিজেপি সরকার রয়েছে। আর যেখানে যেখানে বিজেপি সরকার আছে, তৃণমূল সেই রাজ্যগুলিকেই সংগঠন বৃদ্ধি বেছে নিচ্ছে। লক্ষ্যণীয়ভাবে, এ ক্ষেত্রে প্রথম যে দুই রাজ্যে ঘাসফুল পা বাড়িয়েছে, তা ছোট রাজ্য়। অর্থাৎ একেবারে হাইজাম্প না মেরে ধীরে চলো গতি নিয়েই এগোচ্ছে বাংলার শাসক শিবির।
আরও পড়ুন: Shitalkuchi: শীতলকুচি গুলি-কাণ্ডে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ের কাছে হলফনামা তলব করল আদালত