
কলকাতা: যাদবপুরকাণ্ডের জেরে ডাকা আচার্য তথা রাজ্যপালের জরুরি বৈঠকে থাকলেন না খোদ ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত। সূত্রের খবর, উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল সাড়ে পাঁচটায়। কিন্তু বৈঠক শুরু হয সাড়ে ৬ টায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত সেই সময় থেকে শুরু করে ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করার পরে লগ আউট করেন। এরপর আর ভাস্কর গুপ্তের কাছে মোবাইল ছিল বলে জানা যাচ্ছে। কারণ তারপরে আর হাসপাতাল থেকে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি ছিল না।
সূত্রের খবর, তাঁকে ১ ঘণ্টার জন্য মোবাইল দেওয়া হয়েছিল। তারপরই চিকিৎসকরা তাঁর কাছ থেকে মোবাইল সরিয়ে নেন। এদিকে তারপরই শুরু হয় রাজভবনের বৈঠক। সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টি রাজ্যপালকে মেসেজে জানান ভাস্করবাবু। এটাও জানান যে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে লগ আউট করতে বাধ্য হন।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে সশরীরে ছিলেন ১০ জন উপাচার্য। ভার্চুয়ালি ছিলেন ৮ জন। তবে তাঁদের মধ্যে কিছুজনের প্রতিনিধি ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদেরও মুখোমুখিও হন সিভি আনন্দ বোস। সেখানেই তিনি জানান, এদিনের বৈঠকে শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের ভিতরের হিংসা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। রাজ্যপাল বলেন, “ক্যাম্পাসের ভিতরে হিংসা বাড়ছে। ভারতের অন্য রাজ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হিংসা হয়। তার মানে এখানেও হবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার জন্য। কিছু ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অনেক ক্যাম্পাসে সিসিটিভি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেন্টাল হেল্থ সাপোর্ট সার্ভিসেস শুরু করতে বলা হয়েছে।” এরপরই তিনি বলেন, “আমি মনে করি রাজ্য সরকারের দু’টি বিষয় নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। সেগুলি নিয়ে এখন আমি কিছু বলতে পারব না।” একইসঙ্গে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নেশাদ্রব্য ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল।
এদিকে, এদিন সাংবাদিক বৈঠকে যাদবপুরকাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় রাজ্যপালকে। তখন রাজ্যপাল ডান কানে হাত দিয়ে বোঝান, তিনি শুনতে পারছেন না। হঠাৎ কেন রাজ্যপাল শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্নে এমন করলেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।