
কলকাতা: পুলিশের ভূমিকায় বেজায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট। তদন্তে গাফিলতিতে বিরক্ত বিচারপতি। প্রশ্ন তুললেন যোগ্যতা নিয়ে। পুলিশের তদন্ত দেখে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের স্পষ্ট মন্তব্য, “এইসব অফিসারদের কলকাতা পুলিশে থাকার কোনও যোগ্যতা নেই। এদের জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া উচিত।” শুক্রবার কেস ডায়েরি-সহ তদন্তকারী অফিসারকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
মূল ঘটনা আদপে গল্ফগ্রিনের। সূত্রের খবর, গত সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ির সামনে পোষ্য কুকুরকে নিয়ে ঘুরছিলেন স্থানীয় যুবক অভিনব সাহা। সেই সময় এলাকারই কিছু যুবকের সঙ্গে বচসা বাঁধে অভিনবের। কথা কাটাকাটি থেকে শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিও হয়। সেই সময় অভিনবের মা ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তিনিও শারীরিক নিগ্রহের শিকার হন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিনবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনায় পুলিশ শোভন দত্ত, আদিত্য মণ্ডল নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জামিনও পেয়ে যায়। এখানেই প্রশ্ন তুলছেন অভিনবের মা ভারতী সাহা।
একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে যান অভিনব। ভারতী দেবীর দাবি, ছেলে যে প্যারালাইজড হয়েছে সেটা পুলিশ উল্লেখই করেনি। ওই নথি মামলায় যুক্ত না করায় অভিযুক্তদের সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ ভারতী দেবীর আইনজীবীদের। এতেই বেজায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি ঘোষ।
আদালতের নির্দেশ, শুক্রবার কেস ডায়রি-সহ আইও-কে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তাঁকে এসে জানাতে হবে কোন সাক্ষী নিম্ন আদালতে মেডিক্যাল ডকুমেন্ট প্রডিউস করেছে? না হলে ওই তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংসের নির্দেশ দেওয়া হবে। এমনটাই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের।
সূত্রের খবর, ঘটনার পর প্রথমে আহত ওই যুবককে পরিবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হওয়ায় তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওই হাসপাতাল অভিনবের প্যারালাইজড হওয়ার কথা জানায়। অভিযোগ, পুলিশ প্রথম হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার নথি সংগ্রহ করলেও দ্বিতীয় হাসপাতালের কোনো নথি সংগ্রহ করেনি। ফলে অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করলেও নিম্ন আদালত তাদের জামিন দিয়ে দেয়।