Kolkata pin code history: পূর্ব ভারতের ‘Zero Point’ কেন রাইটার্স বিল্ডিং চত্বর?

Kolkata pin code history: চিঠির যুগ এখন প্রায় শেষের পথে। কিন্তু একটা নম্বর আজও শহরবাসীর মগজাস্ত্রে গেঁথে রয়েছে। ৭০০০০১। কলকাতার প্রথম পিন কোড। বাংলার ভাগ্যলিপি লেখা রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ঠিকানাতেই কেন বরাদ্দ হল এই আইকনিক নম্বর? নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে ডাক ব্যবস্থার এক অজানা সমীকরণ আর এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস।

Kolkata pin code history: পূর্ব ভারতের Zero Point কেন রাইটার্স বিল্ডিং চত্বর?
জানুন বিস্তারিতImage Credit source: Getty Images

Oct 28, 2026 | 1:32 PM

চিঠির যুগ এখন প্রায় শেষের পথে। ইমেল আর হোয়াটসঅ্যাপের ভিড়ে ডাকঘরের কদর বেশ কিছুটা কমেছে। কিন্তু একটি নম্বর আজও শহরবাসীর মগজাস্ত্রে গেঁথে রয়েছে ৭০০০০১। কলকাতার প্রথম পিন কোড। নম্বরটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ডালহৌসি চত্বর আর সেই বিখ্যাত লাল বাড়িটা। রাইটার্স বিল্ডিং। গঙ্গার দিক থেকে ছুটে আসা হাওয়া আর ট্রামের টুংটাং শব্দের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবন আসলে বাংলার এক জীবন্ত ইতিহাস। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই ঐতিহাসিক ভবনের অলিন্দ থেকেই লেখা হয়েছে গোটা রাজ্যের ভাগ্যলিপি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, কলকাতার ডাক ব্যবস্থার ‘জিরো পয়েন্ট’ বা শুরুর বিন্দু হিসেবে কেন এই রাইটার্স বিল্ডিং সংলগ্ন এলাকাকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল?

থমাস লিয়নের নকশায় তৈরি হয়েছিল এই ভবন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জুনিয়র ক্লার্ক বা ‘রাইটার’-দের থাকার জন্যই মূলত এই বিশাল বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকেই এর নাম হয় রাইটার্স বিল্ডিং। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেরানিদের সেই কোলাহলমুখর আবাসস্থল একদিন বদলে যায় ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে। ব্রিটিশদের হাত ঘুরে স্বাধীন ভারতেও এটিই হয়ে ওঠে বাংলার প্রধান প্রশাসনিক ভবন। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে গোটা রাজ্যের স্পন্দন লুকিয়ে ছিল এই লাল ইটের চার দেওয়ালের অন্ধকার খাঁজেই।

এর পরের গল্পটা ডাক ব্যবস্থার। ১৯৭২ সালের ১৫ অগস্ট সারা দেশে চালু হয় নতুন ডাক ব্যবস্থা বা পোস্টাল ইনডেক্স নম্বর (PIN)। গোটা দেশকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে পিন কোড দেওয়ার কাজ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির জন্য বরাদ্দ করা হল ‘৭’ সংখ্যাটি। কিন্তু কলকাতার বুকে প্রথম পিন কোডটি কোথায় বসবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুব একটা ভাবতে হয়নি ডাকবিভাগকে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ঠিক পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কলকাতা জিপিও (GPO) বা জেনারেল পোস্ট অফিস। ব্রিটিশ আমল থেকেই প্রশাসনিক এবং বাণিজ্যিক ক্ষমতার মূল বিন্দু ছিল এই ডালহৌসি চত্বর। শহরের বুক চিরে বয়ে চলা সমস্ত রাস্তার দূরত্ব মাপা হত এই কেন্দ্র থেকেই। ভৌগোলিক এবং প্রশাসনিক দিক থেকে তাই ডালহৌসি চত্বরই হয়ে ওঠে কলকাতার ‘জিরো পয়েন্ট’। ডাক ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী, একটি সার্কেলের প্রধান ডাকঘরকে দেওয়া হয় ‘০০০১’ নম্বরটি। পূর্ব ভারতের জোন কোড ‘৭’-এর সঙ্গে শহরের এই জিরো পয়েন্টের হিসেব মিলিয়েই কলকাতা জিপিও-র পিন কোড নির্ধারিত হয় ৭০০০০১। জিপিও-র ঠিক পাশেই অবস্থিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাইটার্স বিল্ডিংও এই একই ডাক-পরিচয় পায়।

অর্থাৎ, কলকাতার ডাক ব্যবস্থার জন্মলগ্ন থেকেই ৭০০০০১ হয়ে উঠল রাইটার্স বিল্ডিং এবং কলকাতা জিপিও-র নিজস্ব পোস্টাল ঠিকানা। এই একটি পিন কোডের মাধ্যমেই প্রতিদিন কত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নির্দেশিকা, কত গোপন চিঠি চালাচালি হয়েছে, তার কোনও সঠিক হিসেব নেই। শহরের আনাচে কানাচে এখন অনেক নতুন পিন কোড ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ৭০০০০১-এর আভিজাত্য আজও অমলিন। এই নম্বরটি শুধু একটি ডাকঘর চেনার উপায় নয়, এটি বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।

এক নজরে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ইতিহাস

রাইটার্সের ইতিহাস কেবল কেরানিদের থাকার জায়গাতেই থেমে নেই। ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর এই ভবনের অলিন্দেই রচিত হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত এবং দীনেশ গুপ্ত রাইটার্সে প্রবেশ করে অত্যাচারী ব্রিটিশ অফিসার কর্নেল এন.এস. সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। সেই অবিস্মরণীয় অলিন্দ যুদ্ধের সাক্ষী এই লাল বাড়ি। পরবর্তীকালে স্বাধীন ভারতেও দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বামপন্থী সরকারের প্রধান সচিবালয় ছিল এই মহাকরণ। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর, ২০১৩ সালে প্রশাসনিক কেন্দ্রটি স্থানান্তরিত হয় হাওড়ার নবান্নে। দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততা কমলেও আজও রাইটার্স বিল্ডিং কলকাতার বুকে এক চিরস্থায়ী নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us