
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর হরিশ মুখার্জি রোডের ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ‘শান্তিনিকেতন’-এর সামনে থেকে সরেছে গার্ডরেল। যেতে যেতে ওই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকেই। তিনদিনের মধ্যে দু’খানা নোটিস পড়েছে ওই বাড়ির দেওয়ালে। শুধু তাই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁর সম্পত্তি নিয়ে এত তর্ক-বিতর্ক, তিনি বছরে কত টাকা আয় করেন, তাঁর আয়ের উৎসই বা কী?
২০২৪-এ লোকসভা ভোটে লড়াই করার সময় নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন তিনি, তাতেই নিজের আয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন অভিষেক। সেই হলফনামা অনুযায়ী-
২০১৮-১৯ সালে অভিষেকের আয় ছিল ৭১ লক্ষ ৫২ হাজার ২০০ টাকা।
২০১৯-২০-তে আয় ছিল ৬৭ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৭০ টাকা।
২০২০-২১-এ আয় ছিল ১ কোটি ৫১ লক্ষ ২৯ হাজার ১৭০ টাকা।
২০২১-২২-এ আয় ছিল ৯০ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৪৩ টাকা।
২০২২-২৩ এ আয় ছিল ৮২ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা।
বছরে এই যে লক্ষাধিক টাকা, কখনও কোটি টাকা আয় করেছেন, তার উৎসও উল্লেখ করা আছে হলফনামায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানিয়েছেন, তাঁর আয়ের উৎস হল বেতন, সাম্মানিক ও ব্যাঙ্কের সুদ।
নিজের পেশা হিসেবে সাংসদ পদের কথা উল্লেখ করেছেন অভিষেক। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, সাংসদ হিসেবে পাওয়া বেতন ও সাম্মানিকের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সাংসদরা মাসিক বেতন পান ৭০ হাজার টাকা। আগে সাংসদরা মাসিক ১ লক্ষ টাকা করে বেতন পেতেন। ২০২০ সালে তা কমিয়ে ৭০ হাজার টাকা করা হয়। এছাড়া কন্সটিটিউয়েন্সি অ্যালাওয়েন্স হিসাবে ৪৯ হাজার টাকা পান সাংসদরা। অফিস এক্সপেন্স অ্যালাওয়েন্স হিসাবে ৫৪ হাজার টাকা পান। সব মিলিয়ে সাংসদরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা পান। এছাড়াও বিভিন্ন বৈঠকে যোগ দিলে ভাতা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিলে ২১০০ টাকা, ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিলে ১৪০০ টাকা, রাজ্যের মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিলে ৭০০ টাকা ও প্রতিমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিলে ৪২০ টাকা সাম্মানিক পান সাংসদরা।