New Political Party: ‘পলিটিক্যাল পার্টি’ খুলতে গেলে কী করতে হয়, কী আছে গাইডলাইনে
Election Commission of India: ভারতীয় সংবিধানের 'জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের' ২৯এ অনুচ্ছেদে নতুন রাজনৈতিক দল চালু করার পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা কোনও সংগঠন নতুন রাজনৈতিক দল চালু করার আবেদন জানাতে পারেন নির্বাচন কমিশনে। কীভাবে নতুন দল খুলতে হয়, রয়েছে তার নির্দিষ্ট গাইডলাইনও।

কলকাতা: রবিবার থেকে আচমকা শিরোনামে এনসিপিআই (NCPI)। ২০ জন তৃণমূল সাংসদ ওই দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পর থেকে অনেকেই হয়ত গুগল সার্চ করে বোঝার চেষ্টা করছেন, কোথায় আছে ওই দল, কীই বা তার প্রতীক। আদৌ কোনও সদস্য আছে? কোনওদিন ভোটে লড়েছে এনসিপিআই? এভাবে আদৌ কোনও রাজনৈতিক দল চালানো যায় কি না, সেই প্রশ্নও ঘোরাফেরা করছে। ভারতে কোনও রাজনৈতিক দল খুলতে এবং সেটি চালু রাখতে গেলে বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে।
ভারতীয় সংবিধানের ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের’ ২৯এ অনুচ্ছেদে নতুন রাজনৈতিক দল চালু করার পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা কোনও সংগঠন নতুন রাজনৈতিক দল চালু করার আবেদন জানাতে পারেন নির্বাচন কমিশনে। কীভাবে নতুন দল খুলতে হয়, রয়েছে তার নির্দিষ্ট গাইডলাইনও।
দলের নিজস্ব লেটার-হেডে (যদি থাকে) লিখে আবেদন জানাতে হবে। দল গঠন করার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে জমা দিতে হবে সেই আবেদনপত্র। ৩০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী, মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে গণ্য হবে।
কী কী থাকবে আবেদনে?
দলের নাম। সেই নামে কোনও ধর্ম বা জাতির উল্লেখ থাকবে না।
দলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য উল্লেখ করতে হবে, আর সেটা হবে ভারতীয় সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
দলের সদস্যপদ দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
দলের সাংগঠনিক কাঠামো উল্লেখ করতে হবে। সেই কাঠামোতে কোন পদের কী ক্ষমতা, কী কাজ, তা জানাতে হবে। কোনও একজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার থাকা চলবে না।
প্রতিটি পদে সদস্যদের নিয়োগের পদ্ধতি এবং তাঁদের পদের মেয়াদও জানাতে হবে। কোনও পদেই পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদ থাকবে না।
দলের পদাধিকারী কারা, তাদের কতটা ক্ষমতা ও কাজ কী জানাতে হবে। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা গণতান্ত্রিকভাবে হতে হবে। প্রতিটি পদের জন্য নিয়োগের পদ্ধতি জানাতে হবে। নির্বাচন করে তবেই কোনও পদে নিযুক্ত করা যাবে।
কোনও সভা বা মিটিং করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সেটাও আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
দল চালাতে গেলে কী কী মানতে হবে?
দলের টাকার হিসেব, সিএজি (CAG)-এর প্যানেলভুক্ত অডিটরকে দিয়ে প্রতি বছর অডিট করাতে হবে। সেই অডিট বা হিসেব হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর পদাধিকারী নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
দলের নাম রেজিস্ট্রি করার পাঁচ বছরের মধ্যে দলটিকে নির্বাচন কমিশন দ্বারা পরিচালিত কোনও একটি নির্বাচনে অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
যদি কোনও দল টানা ৬ বছর কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে, কমিশনের রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে দলটির নাম বাদ দেওয়া হবে।
