
কলকাতা: CEC জ্ঞানেশ কুমারকে হুঁশিয়ারি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ। আর তার জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হুঁশিয়ারি দিলেন কল্যাণ। বললেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে না থাকলে আঙুল কেটে বাদ দিতাম।” ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চ থেকে এরকমই ভাষাতে হুঁশিয়ারি দিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কল্যাণ বলেন, “একা, কেবল একা। কোনও ব্র্যান্ড নিয়ে নয়, কোনও ন্যাশনাল পার্টির ব্র্যান্ড নিয়ে নয়। কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে এত নেতা তৈরি হয়েছেন, এত কর্মী তৈরি হয়েছেন। সেই মানুষটা যখন চিফ ইলেকশন কমিশনারের কাছে গেল, আমি তো সেদিন ছিলাম, কী দুর্ব্যবহার মমতাদির সঙ্গে করেছেন, আপনারা কল্পনা করতে পারবেন না। আঙুল তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কথা বলছেন।” এই কথার রেশ টেনেই হুঁশিয়ারি দেন, “আরে আঙুল তুলে তুমি কাকে কথা বলছো? তুমি যদি চিফ ইলেকশন কমিশনার না হতে, আঙুলটা তোমার কেটে বাদ দিয়ে আসতাম।” এখানেই থামেননি কল্যাণ। তিনি বলেন, “আপনি তো এক দেড় বছর এসেছে চিফ ইলেকশন কমিশনার হয়ে। আপনি তো এসেছেন অমিত শাহর দয়ায়। আপনি কোঅপারেটিভ সেক্রেটারি ছিলেন। কমিটিতে আমার সামনে আপনি অ্যাপিয়ার করেছিলেন, আপনার জ্ঞান কত আছে, আমার জানা আছে। আপনি কিচ্ছু জানেন না। আপনি একটা গোয়ার গোবিন্দ লোক!”
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এর আগেও তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তিনি বৈঠকে আঙুল তুলে কথা বলতে চেয়েছিলেন, তিনি আঙুল নামাতে বলেন। জ্ঞানেশ কুমার যে নির্বাচিত নন, মনোনীত, সেটাও তিনি তাঁকে স্মরণ করিয়ে এসেছিলেন। অন্তত বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তেমনই দাবি করেন অভিষেক। এদিন পোড় খাওয়া, আইন গুলে খাওয়া আইনজীবী কল্যাণের কথাতেও উঠে এল একই বিষয়। তবে তার সঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয় সংযোজিত করলেন, আরও খানিকটা সুর চড়িয়ে, রীতিমতো তীক্ষ্ণ হুঁশিয়ারি দিয়ে।
এর আগেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সতর্ক করেছেন এবং প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (অপসারণ) প্রস্তাব আনার কথাও তৃণমূল ভাবছে।
বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “তৃণমূলের সুপ্রিমো তো ওখানেই বসে রয়েছেন। যিনি বলছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে বসিয়ে বলছেন। এটাই তো গণতান্ত্রিক ভাষা। কল্যাণবাবু আরও যত বলবেন, মানুষ তো বুঝবে। যাঁরা CEC-র আঙুল কাটার কথা বলতে পারেন, তাঁরা সাধারণ ভোটারদের গলা কেটে দেবেন, তাঁদের খুন করবেন, তাঁদের বাড়ির লোকেদের সম্ভ্রমহানি করবেন। যদি নেতারাই এই ধরনের কথা বলেন, তাহলে গ্রামগঞ্জের তাঁদের যাঁরা অনুগামী, তাঁরা কী বলবেন!”