BSF: গ্রামবাসীদের স্থানান্তকরণে সমস্যা! অথৈ জলে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তের ফেন্সিংয়ের কাজ

Jhargram TMC Leader: দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও চাকরি না মেলায় টাকা ফেরত চান সজল। অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। শুধু সজলবাবুই নন, একই কায়দায় প্রলোভন দেখিয়ে আরও অনেক বেকার যুবকের কাছ থেকেও টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

BSF: গ্রামবাসীদের স্থানান্তকরণে সমস্যা! অথৈ জলে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তের ফেন্সিংয়ের কাজ
ফাইল চিত্র।Image Credit source: PTI

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Oct 30, 2026 | 8:22 PM

কলকাতা: কাঁটাতারহীন ২৬২ কিমির মধ্যে মাত্র ৪০ কিমিতেই স্মার্ট ফেন্সিং সম্পন্ন, বাকি কাজ আটকে গ্রামবাসীদের স্থানান্তরকরণের কারণে, অথৈ জলে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তের কাজ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উদ্বেগজনক ছবি। যদিও মালদহ-মুর্শিদাবাদ- নদীয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্মার্ট ফেন্সিংয়ের কাজে উল্লেখজনক গতি।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ২৬২ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতার বা স্মার্ট ফেন্সিং বসানো প্রয়োজন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪০ কিলোমিটার অংশে ফেন্সিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ।

বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্তে ফেন্সিংয়ের কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই রিপোর্ট ইস্টার্ন কমান্ড এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীন মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-কলকাতা মিলিয়ে পাঁচটি জোন রয়েছে। সূত্রের দাবি, উত্তর ২৪ পরগনা বাদে বাকি এলাকাগুলিতে, বিশেষত মালদহ ও মুর্শিদাবাদে স্মার্ট ফেন্সিং বসানোর কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

বিএসএফ সূত্রে খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের দুই পাশের এলাকায় উত্তর ২৪ পরগনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক গ্রাম রয়েছে। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তর করতে প্রয়োজনীয় জমির অভাব রয়েছে। ফলে ফেন্সিং বসানোর ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে জটিলতা।

উত্তর ২৪ পরগনায় সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষে বহু গ্রাম ও জনবসতি রয়েছে। তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও জমির সমস্যা রয়েছে। এই একাধিক কারণেই স্মার্ট ফেন্সিংয়ের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

ফেন্সিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় জেলার একাধিক সীমান্ত করিডর এখনও অনুপ্রবেশ ও পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে রয়ে গিয়েছে বলে উদ্বেগ। বিশেষ করে নদী সীমান্ত এবং সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা পরিকাঠামো জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের ৯টি জেলায় মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৩৩৭ একর এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ২৪১.০৩ একর জমি রয়েছে। এই জমিতে বর্ডার আউটপোস্ট, ওয়াচ টাওয়ার এবং বিএসএফের অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত কয়েক মাসে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তপারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। সেই কারণে স্মার্ট ফেন্সিংয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার। সূত্রের খবর, বৈঠকে উত্তর ২৪ পরগনা-সহ মালদহ ও মুর্শিদাবাদ সীমান্তে ফেন্সিংয়ের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

বিএসএফ সূত্রের দাবি, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ফেন্সিংয়ের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় সম্প্রতি পরিদর্শনের সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএসএফের ডিজি। এখন প্রশ্ন, জমি ও জনবসতির জট কাটিয়ে কবে এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তে স্মার্ট ফেন্সিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ হবে?

বিএসএফ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত জেলাভিত্তিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য ও হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ

১) মুর্শিদাবাদ: ৪৫.৪০ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ৩৩৭ একর জমি।

২) উত্তর ২৪ পরগনা: ৪২.০৭ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ২৪১.০৩ একর জমি।

৩) কোচবিহার: ৩৯.৩৯ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ১৩৫.৩৩ একর জমি।

৪) মালদহ: ২০.১৫ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ১৭৬.৭৮ একর জমি।

৫) নদিয়া: ১৪.৭৯ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ৯৫.১১ একর জমি।

৬) দক্ষিণ দিনাজপুর: ৭.৭৫ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ২৬.৪১ একর জমি।

৭) দার্জিলিং: ১.৪৫ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ৪.৩১ একর জমি।

৮) উত্তর দিনাজপুর: ১.২৮ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ৬.৬১ একর জমি।

৯) জলপাইগুড়ি: ০.৩১ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ২.১৭ একর জমি।

সর্বমোট: ১৭২.৬০ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ১,০২৪.৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us