IPS Damayanti Sen: পরিবর্তনের পরিবর্তন! পার্ক স্ট্রিট-কাণ্ডে ‘সরিয়ে দেওয়া’ সেই দময়ন্তীর হাতেই রাজ্যের নারী সুরক্ষার ভার

IPS Damayanti Sen Role in Suvendu Government: ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) পদে ছিলেন দময়ন্তী সেন। তিনিই লালবাজারের প্রথম মহিলা গোয়েন্দা প্রধান। ২০১১ সালে বাংলায় সরকার বদল হয়। বামেদের হঠিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। আর ২০১২ সালে পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত ঘিরেই তৎকালীন সরকারের সঙ্গে কার্যত সংঘাত বাধে এই আইপিএস অফিসারের।

IPS Damayanti Sen: পরিবর্তনের পরিবর্তন! পার্ক স্ট্রিট-কাণ্ডে সরিয়ে দেওয়া সেই দময়ন্তীর হাতেই রাজ্যের নারী সুরক্ষার ভার
নতুন সরকারে গুরুত্ব বাড়ল আইপিএস দময়ন্তী সেনেরImage Credit source: TV9 Bangla

May 18, 2026 | 6:52 PM

কলকাতা: ১৪ বছর আগে তাঁর দৃঢ় অবস্থান দেখেছিল রাজ্যবাসী। তাতে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল তৎকালীন সরকার। তার জেরে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। বাংলায় শাসক বদল হতেই গুরুত্ব বাড়ল কলকাতা পুলিশের প্রথম মহিলা গোয়েন্দা প্রধান দময়ন্তী সেনের। ১৯৯৬ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসারকে বড় দায়িত্ব দিল বর্তমান বিজেপি সরকার। বিগত কয়েক বছরে বাংলায় নারী নির্যাতনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তার সদস্যসচিব করা হয়েছে আইপিএস দময়ন্তীকে। এমনকি, সোমবার এই কমিশনের কথা ঘোষণার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দময়ন্তীকে ‘বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় আইপিএস অফিসার’ বলে উল্লেখ করেন।

তৃণমূল আমলে গুরুত্ব কমেছিল দময়ন্তীর-

দময়ন্তীর জন্ম ১৯৭০ সালে। অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে আইপিএস অফিসার হন। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) পদে ছিলেন দময়ন্তী সেন। তিনিই লালবাজারের প্রথম মহিলা গোয়েন্দা প্রধান। ২০১১ সালে বাংলায় সরকার বদল হয়। বামেদের হঠিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। আর ২০১২ সালে পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত ঘিরেই তৎকালীন সরকারের সঙ্গে কার্যত সংঘাত বাধে এই আইপিএস অফিসারের। ২০১২ সালে পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই ঘটনায় যেভাবে কম সময়ের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাতে চর্চায় উঠে আসে এই আইপিএস অফিসারের নাম।

তদন্তে সাফল্য আসার পরও তাঁকে সরতে হয় কলকাতা পুলিশ থেকে। কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যারাকপুরে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে নিযুক্ত হন তিনি। সেখান থেকে দার্জিলিংয়ে ডিআইজি রেঞ্জে বদলি করা হয় দময়ন্তী সেনকে। তারপর তাঁকে পাঠানো হয় সিআইডি-তে। সেখানে ডিআইজি পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালে ফেরেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হয়ে। বর্তমানে আইপিএস দময়ন্তী সেন এডিজি (আর্মড ফোর্স) পদে রয়েছেন।

সেই দময়ন্তী সেনেরই গুরুত্ব বাড়ল নতুন সরকারের আমলে। এদিন নবান্নে দুটি কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে কমিশন। অন্যটি বিগত কয়েক বছরে নারী নির্যাতন নিয়ে কমিশন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার সময় সেখানে ছিলেন আইপিএস দময়ন্তী সেন। তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আইপিএস, বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন।” বাংলার সেই ‘জনপ্রিয়’ আইপিএস দময়ন্তীর গুরুত্ব বাড়ল। তাঁকে নারী নির্যাতন নিয়ে কমিশনের সদস্যসচিব করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। কেউ কেউ বলছেন, সরকারের বদলে ‘উত্তরণ’ হল দুঁদে আইপিএস দময়ন্তীর। এরপর আর কোন দায়িত্বে আসেন তিনি, সেটাই এখন দেখার।  

Follow Us