
কলকাতা: দেশের আর পাঁচটা রাজ্যের থেকে যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বিজেপির কাছে আলাদা, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। ব্রিগেডে কখন হবে শপথ গ্রহণ, কে কে উপস্থিত থাকবেন, সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। শুধু রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর (West Bengal New CM) নামটাই এখনও প্রকাশ্য়ে আসেনি। জল্পনা চলছে অনেককেই নিয়েই। তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, অগ্নিমিত্রা পল- এমন অনেক নাম নিয়েই চর্চা চলছে। আবার কেউ বলছেন, অপ্রত্যাশিত নামও উঠে আসতে পারে। জল্পনা চলছে জয়ী প্রার্থী উৎপল মহারাজকে নিয়েও। কেউ কেউ তাঁকে বলছেন, ‘বাংলার যোগী।’
উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দজী মহারাজকে এলাকার মানুষ উৎপল মহারাজ বলেই চেনেন। ভোট প্রচারের সময় ময়দানেও থাকলেও, সেভাবে আলোয় আসেননি তিনি। তাঁর নাম নিয়ে যে ভোট-আবহে খুব বেশি চর্চা হয়েছে, তাও নয়। রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর নাম কে কবে শুনেছে, তাও কারও মনে নেই। তবে ভোটবাক্সে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর প্রভাব।
কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনে ৭৬,৪২৫ ভোটের মার্জিনে জয়ী হয়েছেন তিনি। ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩৪৯টি ভোট পেয়ে তৃণমূল প্রার্থী নিতাই বৈশ্যকে হারিয়েছেন তিনি।
সন্ন্যাস নেওয়ার আগে তাঁর বাড়ি ছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। বালুরঘাটে জন্ম। ২০০০ সালে তিনি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে যোগদান করেন। সঙ্ঘের নিয়মানুসারে ২০০৪ সালে তাঁর উপনয়ন সংস্কার হয়। ২০০৮ সালে তাঁর ব্রহ্মচর্য সংস্কার হয়, ২০১২ সালে নৈস্টিক সংস্কারের পর ২০১৬ সালে সন্ন্যাস সংস্কার হয়। তবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর ভারত সেবাশ্রম থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম এলাকার ভারত সেবা আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করেছেন উৎপল মহারাজ। মাত্র ১০-১১ বছর বয়স থেকেই সেখানে ছিলেন তিনি। পতিরাম হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পরই সন্ন্যাস গ্রহণের পথে চলে যান তিনি। পরে বালুরঘাট কলেজ থেকে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
জানা যায়, মার্চ মাসের শুরুর দিকে শুভেন্দু অধিকারী প্রথম তাঁকে বিজেপির সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর তিনি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাবে সম্মত হন। এপ্রিল মাসেই ইস্তফা দিতে চেয়ে উৎপল মহারাজ আবেদন জানান ভারত সেবাশ্রম কর্তৃপক্ষকে। সেই ইস্তফা গ্রহণও করা হয়। তারপর থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয় তাঁর। এরপর শুরু হয় প্রচার।
প্রচারের সময় বারবার উৎপল মহারাজ বলেছেন, মানুষের সেবাই তাঁর ধর্ম, সেবাই কর্ম। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ ছেড়ে এলেও তিনি এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আধ্যাত্মিক জীবন ত্যাগ করেননি তিনি।