
কলকাতা: বামেদের বুকস্টলকে কেন্দ্র করে রাতভর ধুন্ধুমার যাদবপুরে (Jadavpur)। শুরুটা হয়েছিল সপ্তমীর সন্ধ্যায়। অভিযোগ, যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে বামেদের বুকস্টলগুলি ভাঙতে বুলডোজ়ার নিয়ে হাজির হয় প্রচুর পুলিশ। সেইসময় বুলডোজ়ারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সুজন-সৃজন চক্রবর্তী-সহ কর্মী সমর্থকরা। রাত বাড়তেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে শুরু করে। মধ্যরাতে এপিডিআর-এর (APDR) বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আর তা ঘিরেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ভোররাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। রাস্তায় নামেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তি হয় তাঁদের। এমনকী, লাঠিচার্জেরও অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ বামেদের।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে বামেদের বুকস্টল সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। অভিযোগ, আচমকাই পুলিশ সেখানে হাজির হয়ে স্টল সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এমনকী, স্টল ভাঙার জন্য ঘটনাস্থলে বুলডোজ়ারও নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগ। আর তা ঘিরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, সুদীপ সেনগুপ্ত-সহ একাধিক বাম নেতা। স্টল সরানোর কোনও আইনি নির্দেশ বা লিখিত নোটিস রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশের কাছে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। বুলডোজ়ারের সামনে দাঁড়িয়ে শুরু হয় স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা।
ভোররাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার কর্মী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন এপিডিআর-এর বুকস্টলে ভাঙচুর চালান। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণী।
ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন বাম যুবনেতা সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা নিজেদের কলকাতা পুরসভার কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছেন, তাঁদের পরিচয়ের প্রমাণ কোথায়?
সৃজন বলেন, “তাঁরা বলছেন কেএমসির লোক। একটা নেমপ্লেট বা একটা কোনও পরিচিতিপত্র কিছু তো থাকবে। পুলিশ কাদের গার্ড করছে? তারা কি কেএমসি-র লোক? নাকি তারা বিজেপির গুন্ডা? পুলিশ জানে, কিন্তু গার্ড করছে?”
বুকস্টল রক্ষার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। সৃজনের কথায়, “এখানে মানুষ আছেন, থাকবেন। যাদবপুরের এই বুকস্টলগুলো আমরা রক্ষা করব।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তীও। চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ প্রশাসনকে নিশানা করেন তিনি। ঊষসী বলেন, “পুলিশের কাজ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সেইসব কিছু না করে চোরবাগানে এত বড় পদপিষ্টের ঘটনা ঘটল, সেদিকে কোনও নজর নেই। আর একটা সামান্য বইয়ের দোকান ভাঙার জন্য চারিদিকে রাশি রাশি পুলিশ, সিআরপিএফ, প্রিজন ভ্যান সবকিছু নিয়ে হাজির হয়েছে। আমরা যেন এখানে কোনও ক্রাইম করতে এসেছি।”