
কলকাতা: অবশেষে কি রাজ্যে হতে চলেছে প্রাথমিক স্কুলে চাকরি (Primary Teacher Recruitment)? চাকরিপ্রার্থীদের লাগাতার আন্দোলন, বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে প্রশ্নটা তো ঘোরাফেরা করছে দীর্ঘদিন থেকেই। উত্তরটা মিলছিল না। সূত্রের খবর, অবশেষে আইনি জট কাটতে চলেছে ১১,৭৬৫ শূন্যপদের নিয়োগে। সে কারণেই এখন চরম ব্যস্ততা পর্ষদে। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়বে প্যানেল। প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্য গ্রেফতার হতেই পর্ষদ সভাপতির দায়িত্ব গিয়েছিল গৌতম পালের কাঁধে। তারপরই তিনি একটা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া কাউন্সিলিং, ইন্টারভিউ পর্যন্ত এগিয়েও আইনি জটে আটকে যায়। ফলে নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে যেভাবে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে পর্ষদ মনে হচ্ছে শীঘ্রই মিলতে পারে নিয়োগপত্র দেওয়ার ছাড়পত্র। আশার আলো দেখছেন পর্ষদের কর্তারা। প্যানেলে ছাড়পত্র পাওয়া নিয়ে আশাবাদী খোদ পর্ষদ সভাপতি।
শীর্ষ আদালত ছাড়পত্র দিলেই দ্রুত চাকরিপ্রার্থীদের হাতে সেই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে, খবর পর্ষদ সূত্রে। সে কারণেই পর্ষদের তরফে প্যানেল তৈরি করা হচ্ছে। ২০২২ সালের নিয়োগের সেই প্যানেল যাবে সুপ্রিম কোর্টে। তারপর সুপ্রিম কোর্ট ছাড়পত্র দিলে নিয়োগ শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন পর্ষদের কর্তারা। দ্রুত প্রাথমিক স্কুলগুলিতে চলে আসবে নতুন শিক্ষক। এখন দেখার সোমবার প্যানেল দেখে সুপ্রিম কোর্ট ছাড়পত্র দেয় কি না। যা নিয়ে জোর চর্চা চলছে শিক্ষা মহলের অন্দরেও।
এদিকে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করার দাবি ফের নতুন করে সরব হয়েছেন ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণরা। সুপ্রিম নির্দেশের দিকে তাকিয়ে তাঁরাও। এক চাকরিপ্রার্থী বলছেন, “কিছুদিন আগেই আমরা পর্ষদ সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। উনি বলেছেন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া মিটে গেলেই আমরা কী ভাবছি সেটা দেখতে পাবে।” অন্যদিকে বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলছেন, “সঠিক প্যানেল দিলে, দুর্নীতি না করলে নিয়োগে আদালতের কোনও নির্দে বাধা হবে না।”