
কলকাতা: জেল হেফাজতে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। তাঁর বিরুদ্ধে শুধু একটা নয় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে ইন্দ্রনীলকে নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারেরও (Kakali Ghosh Dastider)। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া সাংসদ। ওই পোস্টেই দাবি করেছেন, শুধু মন্ত্রী একা নয়, তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদেরও গ্রেফতার করা হোক।
সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে কারও নাম উল্লেখ করেননি কাকলি। তবে, তাঁর ইঙ্গিত যে ইন্দ্রনীলের দিকেই, তা একপ্রকার স্পষ্ট। পোস্টে সাংসদ লেখেন, “নারী নির্যাতন ও খুনের মতোই নিন্দনীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলাদের ভোগ করা। ধৃত মন্ত্রী একা নয়, সাঙ্গপাঙ্গদের জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাই”।
এই পোস্ট নিয়ে টিভি৯ বাংলাকে প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন সাংসদ। সাংসদের কথায়, “মহিলাদের পাশে থাকতে চাই। মহিলাদের সুরক্ষিত করতে চাই। মহিলাদের স্বার্থে তাঁদের শিক্ষিত করে স্বনির্ভর করার জন্য কাজ করে যাই। সেই পরিস্থিতিতে যদি কখনও দেখা যায় গণধর্ষণ হচ্ছে, যেমন আর জি করে কী হল আজ পর্যন্ত কিন্তু তদন্ত মনে হয় শেষ হল না বলে দেখতে পাচ্ছি। তাই মহিলার উপর অত্যাচার যতটা নিন্দনীয়, একজন ক্ষমতার শিখরে । শোনা যাচ্ছে, মহিলাদের কখনও কখনও বাড়িতে ডেকে নিয়ে যেতেন। কেউ কেউ বলছেন যে গানের বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভোগ করা হতো। এটা তো অসম্ভব অন্যায়। শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”
এই বিষয়ে টিভি৯ বাংলাকে কাকবি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “আমি লোকাল মানুষের বাইট দেখলাম। তাঁরা বলছে যে গাড়ি করে অনেক লোক আসত। গাড়ি করে কারা আসত? পুলিশের সেটা দায়িত্ব খুঁজে বের করা। লোকাল মানুষের কাছেও জানা যাবে। আর যাঁকে ধরেছে, তাঁর কাছ থেকেও জানা যাবে। ওপরের মদত না থাকলে কি এগুলো সম্ভব হয়?”
এরপর ইন্দ্রনীলের নাম নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেছেন তিনি। বলেন, “যখন রাস্তায় আন্দোলন করেছি, সেই সময় তাঁরা ছিলেন না। পরে মধু খেতে এসেছে।”
উল্লেখ্য, ভুল বুঝিয়ে পুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এমনই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ইন্দ্রনীল সেনকে (Indranil Sen)। তবে শুধু একটা অভিযোগ নয়, আরও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে তাঁর বিরুদ্ধে। বাগানবাড়ির নিয়েও চর্চা চলছে। সিঙ্গুরের বাগডাঙা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ি। তার ভিতরে রয়েছে সুইমিং পুল, নাচমহল। সেখানে আমোদ প্রমোদ হত বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “রাত ১১টা বাজলেই ঝুমুর আওয়াজ পাওয়া , নর্তকী, অপ্সরারা আসত। এখানে গ্রামের মানুষ রাত ৯টা বাজলেই ঘুমিয়ে পড়ে। তারপর নেতা-মন্ত্রীরা লালবাতি জ্বালিয়ে এসে আমোদ প্রমোদ করত।”