
কলকাতা: ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা একটা দল ক্ষমতা হারিয়েছে। একধাক্কায় বিধায়ক সংখ্যা নেমেছে ৮০-তে। স্বাভাবিকভাবেই দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। বিদ্রোহের সুর শোনা যাচ্ছে অনেকের গলাতেই। এরই মধ্যে দলীয় পদে ইস্তফা দিয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)। তারপরই শুভেচ্ছাবার্তা আর এক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। তবে কল্যাণের এই বার্তা কাকলির উদ্দেশে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি। এদিকে, কাকলি-পুত্রের পরপর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়ে দেন সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি। এরপর, সোমবার সকালেই কল্যাণ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে লেখেন, “আপনার আগামী দিনের যাত্রাপথ আরও মসৃণ হোক, আপনি ও আপনার পরিবারের সকলে খুব ভালো থাকুন, এই শুভকামনাই রইল। আশা করি, এতদিন ধরে জমে থাকা সমস্ত কালিমা এবার সত্যিই ধুয়ে-মুছে নির্মল হয়ে যাবে। নতুন অধ্যায়ে অন্তত আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন না পড়ুক, সেই প্রার্থনাও রইল। শুভেচ্ছা নেবেন।”
কল্যাণের এই পোস্টের পর একাধিক পোস্ট করেছেন কাকলি-পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। ‘উকিলবাবু’ বলে একাধিক পোস্ট করেছেন তিনি।
মাত্র এক বছর আগে ২০২৫ সালের অগস্টে আচমকাই মুখ্যসচেতক পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ। তিনি বলেছিলেন, দল আমাকে যা দায়িত্ব দেবে, তা মাথা পেতে নেব। সেই সময় কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে তাঁর তরজা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপদলনেতা করা হয়েছিল শতাব্দী রায়কে। বিধানসভা ভোটের পর কাকলিকে সরিয়ে ফের কল্যাণকেই পুরনো দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা।