
কলকাতা: বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের টাকির ঘটনায় লোকসভার প্রিভিলেজ কমিটির সামনে উপস্থিত হতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, বসিরহাটের পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষকে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে লোকসভার প্রিভিলেজ কমিটির সামনে হাজির হতে হবে তাঁদের। স্বাধিকারভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে এই চিঠি এসেছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ তোলেন, বসিরহাটের পুলিশ প্রশাসন ও জেলাপ্রশাসনের ব্যবহার নিয়ে। ওই একই দিনে ডাক পড়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব বি পি গোপালিকা ও উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদিরও। তাঁদেরও ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে প্রিভিলেজ কমিটির সামনে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টাকিতে সুকান্ত মজুমদার আহত হন বুধবার। সেই ঘটনায় লোকসভার প্রিভিলেজ কমিটি পদক্ষেপ করল বৃহস্পতিবার। নিরাপত্তাজনিত প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজিরা দিতে হবে ডিজি, এসপি, এএসপিকে। বুধবার টাকিতে সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের স্বাধিকারভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশি দুর্ব্যবহারের কথাও প্রিভিলেজ কমিটিকে জানান বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত। তারপরই পুলিশকর্তাদের তলব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার সুকান্তের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সেই সঙ্গে পুলিশের আধিকারিকরা সুকান্তের জীবন সংশয়ের মত আঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল বলে অভিযোগ। আজও স্পিকার ওম বিড়লাকে গত দু’দিনের বসিরহাট আর টাকির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিতভাবে চিঠি দেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।
এদিকে এদিনই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছে, “যখন বিপদে পড়েন, পুলিশকেই তো ডেকে পাঠান। আর ছবি তোলার জন্য মহিলা পুলিশদেরও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে হবে? তাঁরা যদি পাল্টা আপনাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। একটা মহিলার গায়ে হাত দেওয়া অন্যায় এটা জানেন না? ভাবছেন পুলিশরা সব সহ্য করে নেবেন? ওনারা মানুষ না?” টাকি নিয়ে এবার জল যে অনেক দূর গড়াতে চলেছে, লোকসভার সচিবের কাছ থেকে আসা এই চিঠি তা বুঝিয়ে দিল।