
কলকাতা: কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে হামলার অভিযোগে করা মামলায় জরুরি শুনানি করতে অস্বীকার করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি উল্লেখ করেন মহুয়ার আইনজীবী। তিনি আদালতে জানান, নিজের লোকসভা এলাকায় যাওয়ার সময় সাংসদকে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল আদালত। তা সত্ত্বেও হামলা এবং নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবীর বক্তব্য, আদালত নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু হামলা হয়েছে। আদালত মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনতে রাজি হয়নি। বিচারপতি জানান, এ বিষয়ে আদালত ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে। যা বলার স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কৃষ্ণনগর লোকসভার তেহট্টের হাউলিয়া পার্ক মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে কর্মী-বৈঠক করতে গিয়েছিলেন মহুয়া। অভিযোগ, তিনি পৌঁছতেই সেখানে একদল জনতা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বৈঠক শেষ করে সাংসদ বাইরে পা রাখতেই তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখানো হয়। সঙ্গে ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। তখনই তার মাঝ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।
ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহুয়া। সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে মহুয়া দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের না সামলে পুলিশ উল্টে তাঁকেই জোর করে গাড়িতে তুলে চম্পট দেয়। পরে তেহট্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সাংসদের মূল অভিযোগ, আদালত পূর্বে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানের নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কৃষ্ণনগরের পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ হাত গুটিয়ে বসেছিল। ঘটনার দিনই নিজের গাড়ি থেকে একটি ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের উদ্দেশে মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘‘দেখে যান, বুলেটের মতো ডিম খাচ্ছি!’’
উল্লেখ্য, গত অগস্ট মাসে মহুয়ার একটি মামলায় বিচারপতি দত্ত মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘রাজনীতিতে এসে ডিম ছোড়ায় ভয় কীসের? স্বাধীনতা সংগ্রামীরা তো বুকে বুলেট সামলেছেন!’’ শীর্ষ আদালতের সেই মন্তব্যের রেশ ধরেই তেহট্টের ঘটনায় সরব হয়েছিল সাংসদ।