
কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম ঘটনা ২১শে জুলাই। সেদিনের গুলি চালানোর ঘটনা মমতার রাজনৈতির জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ক্ষমতায় আসার পর সেই শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তিনি প্রতি বছর শহিদ দিবস পালন করেন। এইবার অন্যথা হচ্ছে না। আর এই শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিনই বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর দাবি, তৎকালীন কমিশন শহিদ পরিবারকে যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা দেননি।
শুভেন্দু অধিকারী কী কী বলেন?
এ দিন, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কমিশনের নির্দেশ ছিল মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও আহদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা দেননি। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বলেন, “লজ্জা করে না?” তিনি বলেন, “যে ১২ জনকে ময়নাতদন্তের পর শহিদ হিসাবে চিহ্নিত করছে। মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর আহতদের ৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার সুপারিস করছিল। তৃণমূল সরকার মৃতদের ২ লক্ষ টাকা ও আহতের ২৫ হাজার টাকা দেয়। লজ্জা করে না! এরপরও আপনারা এই সব করেন।” যে শহিদদের স্মৃতির জন্য এত দিন ধরে শহিদ দিবস পালন মমতার, তাঁদের পরিবারই বঞ্চিত পুরো ক্ষতিপূরণ থেকে?
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযান হয়। সেই অভিযান আটকাতে গুলি চালায় পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস নেতার মৃত্যুতে অভিযোগ ওঠে তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর একটি কমিশন গঠিত হয়। ডাক পড়ে প্রাক্তন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যেরও। এতদিন পর আজ অর্থাৎ সোমবার বিধানসভায় সেই তদন্ত কমিশনের রিপোর্টই পেশ করেন শুভেন্দু।