
কলকাতা : ভাঙলেন, তবু মচকালেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জন্য এই প্রবাদটাই হয়তো এখন প্রযোজ্য। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা। দুই দিন আগেও জোর গলায় বলেছিলেন তিনি হারেননি। ইস্তফা কেন দেবেন? এখনও পর্যন্ত যা খবর তিনি ইস্তফা দেননি। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্তও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে প্রাক্তন শব্দটাও ছিল না। জ্বলজ্বল করছিল চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল (Chief Minister Of West Bengal)। আজ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। কিন্তু তারপরেও তাঁর প্রোফাইলের বায়োতে যুক্ত হল না ‘প্রাক্তন’ শব্দটা। তাহলে কী লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার ফেসবুক খুললে দেখা যাবে তাঁর বায়ো সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। লেখা,অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন। তারপরই লেখা চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। ব্র্যাকেটে লেখা ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম বিধানসভা। কিন্তু, বায়োতে প্রাক্তন শব্দটা জুড়তে পারলেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলের বায়োতেও একইভাবে লেখা পরিবর্তন করেছেন। এখনও নিজেকে প্রাক্তন মানতে নারাজ মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া বায়ো
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী, ৭ মে পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু, প্রথা অনুযায়ী, সব রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কথা ভোটের রেজাল্টের দিনই। ২০১১ সালে ঠিক সেই ছবিই দেখা গিয়েছিল। তখনও ভোটের ফল ঘোষণা হয়নি। কিন্তু, ট্রেন্ড দেখেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেখানে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করলেন না। এমনকী, নতুন সরকার গঠনের পরও প্রাক্তন শব্দটা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে জুড়তে পারছেন না। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আজ ব্রিগেড মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী তিনি। গতকালই বিধানসভার পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় শুভেন্দুকে। আর আজ ব্রিগেড মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। কিছুক্ষণ আগেও যখন শুভেন্দুর সোশ্যাল মিডিয়ার বায়োতে লেখা ছিল বিরোধী দলনেতা। আর এখন বায়োতে তিনি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর সোশ্যাল মিডিয়া বায়ো