
কলকাতা: একই এপিক নম্বরে দুজন ভোটারের নাম। গত কয়েকদিন ধরে এমন একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘ভুয়ো ভোটার’ কার্ড নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে নবান্নও। আর এবার নেতাজি ইন্ডোর থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সরাসরি দুটি সংস্থার নাম উল্লেখ করে মমতা দাবি করলেন, বিজেপি এ রাজ্যে তাদের পাঠিয়েছে ভোটার কার্ড জালিয়াতির জন্য। একেবারে হাতে কাগজ নিয়ে উদাহরণ টেনে বোঝালেন, কী হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরে ছিল তৃণমূলের মেগা বৈঠক। সেখানে মমতা দাবি করলেন, ‘ওরা’ (বিজেপি) দুটি এজেন্সি পাঠিয়েছে বাংলায়। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমি যতদূর খবর পেয়েছি। ওরা বাংলায় এজেন্সি পাঠিয়েছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন অব বিলিয়ন মাইন্ডস’ ও ‘কোম্পানি ইন্ডিয়া ৩৬০ সাবসিডিয়ারি’ নামে দুটি এজেন্সি আছে। এখানে ওদের অনেক লোক পাঠিয়েছে। তারা ডেটা অপারেটরদের কাছে গিয়েছে। ফিল্ড সার্ভে করেনি। অনলাইনে কারসাজি করেছে। একই এপিক কার্ডে বাইরের লোকের নাম তুলেছে। মমতার দাবি, বাংলার লোক যখন ভোট দিতে যাবে, বাইরে থেকে এসে কেউ ভোট দিয়ে দেবেন।”
উদাহরণ দিতে গিয়ে মমতা উল্লেখ করেন, মুর্শিদাবাদের রানিনগরের সইদুল ইসলামের নাম ও হরিয়ানার সোনিয়া দেবী নামে আরও এক ভোটারের কার্ডের এপিক নম্বর একই। আবার বাংলার মহম্মদ আলি হোসেন ও হরিয়ানার মনজিতের এপিক নম্বরও একই। মমতার প্রশ্ন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ভোট দেবে নাকি হরিয়ানা ভোট দেবে?’ লম্বা লিস্ট দেখিয়ে মমতা বলেন, “সব হরিয়ানার ভোটার। এটা বিজেপির ব্যবসা।” শুধু হরিয়ানা নয়, গুজরাটের ভোটারের নামও রয়েছে তালিকায়।
এভাবেই দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে বিজেপি জিতেছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, “ওরা ধরতে পারেনি, কিন্তু আমরা ধরব।” খোদ নির্বাচন কমিশনের ছত্রছায়ায় পুরো কাজটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মমতার। বাংলার ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘একই এপিক নম্বরে দুজনের নাম থাকলে, আপনাদের নাম বাদ দিয়ে সময় লাগবে না।’ প্রশাসনকেও এই বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার এই অভিযোগ শুনে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “হরিয়ানা-পঞ্জাবের লোক কি বাংলায় থাকে না? সবাই কি মুখার্জি ব্যানার্জি? বাংলাদেশ থেকে লোক ঢুকিয়ে ভুয়ো ভোটার দিয়ে ভোট জিতেছেন উনি। এগুলো বিজেপি ধরে ফেললে উনি আর টিকতে পারবেন না, তাই ভয় পাচ্ছেন।”