
কলকাতা: মনোনয়ন পেশ করলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়েও ফের এসআইআর নিয়ে সরব মমতা। বেরিয়ে ভবানীপুরের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা শিকার করেন বলেন। পাশাপাশি তিনি বার্তা দেন, “আমি ৩৬৫ দিনই এখানে থাকি। আমার ধর্ম-কর্ম সবই এখানে। এখানেই আছি, এখানেই থাকব। ভবানীপুরের মানুষদের আমার ধন্যবাদ।” বাংলায় ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি খুব পরিচিত গুজরাটি ভাষাতেও অভিবাদন জানান মমতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহুয়া-বিতর্কের পর মমতার উচ্চারিত গুজরাটি শব্দবন্ধ রাজনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি ‘আমি ভবানীপুরেই ৩৬৫ দিন থাকি, ভবানীপুরেি ধর্ম-কর্ম’ বলার মাধ্যমে প্রচ্ছন্নভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীকে ‘বহিরাগত’ বলেও দাগিয়ে দিলেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য।
এসআইআর নিয়ে এদিনও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে তিনি আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে আভাস দিয়ে রাখলেন। মমতা বলেন, “এত নাম বাদ গিয়েছে। ১ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম উঠেছে। সেটাও আমার আদালতে কেস করার জন্য। বাকি ৫৮ লক্ষ খোলাই হয়নি। কিছু বাদ হতে পারে, যাঁরা ডুপ্লিকেট ভোটার কিংবা মৃত ভোটার। বাকি বিচারাধীন ২৭ লক্ষের কিছু বেশি বাকি রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করি।” মমতার কথায়, “পরে নাম তুলে কী হবে, তাঁরা তো ভোটটা দিতে পারবে না।”
কথা প্রসঙ্গেই মমতা বলেন, “এটা সুপ্রিম কোর্টেরই অর্ডার ছিল, যাঁরা বিবেচনাধীন রয়েছেন, তাঁরা জেনুইন ভোটার। তাঁরা ট্রাইবুনালে যাবেন, সেখানে নিষ্পত্তি হবে। তাহলে ফ্রোজেন করে দেওয়ার মানে কী, আমার মাথায় ঢুকছে না। আমরা আবার যাব। বিচার চাইব।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর-এ র পশ্চিমবঙ্গে মোট প্রায় ৯০.৮২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, অর্থাৎ আনুমানিক ৯১ লক্ষ। প্রথমে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় বাদ পড়ে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। এরপর ট্রাইবুনাল অর্থাৎ অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়ায় আরও ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার নাম অযোগ্য বলে ধরা হয়। নাম বাদ পড়ার পর থেকেই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবারই তিনি বলেন, ‘উকুন বাছার মতন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’ মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনায় নাম বাদ সবচেয়ে বেশি গিয়েছে।