
কলকাতা: তাঁর দলের পাঁচবারের বিধায়ক। তাঁর আমলে মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। রবিবার সকালে তাঁর সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। আর বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে পোস্ট করলেন কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখলেন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।’ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগও তুললেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মমতা?
আশিসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এদিন বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা লেখেন, “জীবনের একটা বড় সময় তিনি শিক্ষকতা এবং সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর বিনয়ী স্বভাব এবং রামপুরহাট ও বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের জন্য তিনি সবসময়ই পরিচিত ছিলেন।”
এরপরই মমতা লেখেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনা আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে, কারণ জীবনের শেষ দিনগুলিতে তাঁকে যে প্রবল মানসিক ও আবেগজনিত চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। পাঁচবারের বিধায়ক, বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার এবং চেয়ারম্যান হিসেবে আশিসদা রামপুরহাটের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন এবং মানুষের জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন। অথচ তাঁর এতদিনের জনসেবার পরও তাঁকে বারবার হেয় করা হয়েছিল, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং নিরন্তর চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে।”
মানসিক চাপ তৈরির অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “দীর্ঘদিনের জনসেবার পরও তাঁকে যে হয়রানি ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা আমাদের সকলকে রাজনৈতিক বিদ্বেষের লাগামহীনতার কারণে একজন মানুষের উপর কী ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করা উচিত।” আশিসের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে মমতা লেখেন, “তাঁর পরিবার, প্রিয়জন, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং অগণিত অনুরাগীর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল।” সব শেষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “তাঁর অনুপস্থিতি সবসময়ই গভীরভাবে অনুভূত হবে।”
২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন আশিস। ২০২৬ সালে পরাজিত হন তিনি। আবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান তিনি। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে দেখা যায় তাঁকে। এদিন সকালে আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শোক প্রকাশ করে পোস্ট করেন। কিন্তু, মমতা পোস্ট করলেন বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর। আশিসের ঋতব্রত শিবিরে যাওয়ার জন্যই মমতার এই বিলম্বে শোক প্রকাশ কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।