
কলকাতা: ‘After Death Comes Doctor’! SIR নিয়ে কমিশনের বক্তব্য নিয়ে বড় কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দিল্লি থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ইন্ডি জোটের আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন তিনি। আজ রাহুল গান্ধীদের সুপ্রিম কোর্ট যাত্রা নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজপথ। দাবি সেই একই। কলকাতাতে ফিরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “After Death Comes Doctor। আমরা মনে করি বৈধ ভোটারের নাম থাকা উচিত। বৈধ ভোটারকে অবৈধ ভোটার বলা হয়ছে। আমরা মনে করি পুরনো লিস্টে ভোট করা উচিত।”
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির রাজপথ এখন উত্তপ্ত। সোমবার ‘সুপ্রিম কোর্ট চলো’ কর্মসূচি করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সোমবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেন বিরোধী নেতারা। সেই বৈঠকে ছিলেন রাহুল, প্রিয়ঙ্কা, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু হঠাৎই আবার ইউটার্নও! কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ফিরে আসেন। কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকে জানিয়েছিলেন, যদি CJI-এর সাক্ষাতের সময় পাওয়া যায়, তাহলে তিনি থাকবেন। সেক্ষেত্রে তিনি শনিবারের পর রবিবারও দিল্লিতে ছিলেন। মূলত সোমবার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবিবার রাতে CJI জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন না। তাই মমতা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি এই প্রতিনিধি দলে থাকবেন না। তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। কিন্তু তাঁর দলের অন্যান্য সাংসদরা থাকেন।
নির্বাচনী পর্বে বারবার কমিশনের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন, যাতে কোনওভাবেই একটিও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়। কিন্তু বাংলায় প্রায় ২৭ লক্ষের বেশি ভোটারকে অযোগ্য বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। SIR নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র প্রতিবেদন এই ইস্যুকে আবার নতুন করে জাগ্রত করে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের ৩ সদস্যের মধ্যে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১০ মাসে প্রায় ১৪টি বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের অজান্তে এবং সম্মতি ছাড়াই ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ভোটার তালিকা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয় ইন্ডি জোট। আর তাতে সামিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দিল্লি পর্যন্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দিল্লি থেকে ফিরেও সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন মমতা।