
কলকাতা: এবার SSKM কর্তৃপক্ষকে পাঠানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর চিঠি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে সরাসরি তিনি মমতাকে বার্তা পাঠালেন, “ওঁকে ওতো ঘাঁটাঘাঁটি করতে মানা করুন, এক্স রে রিপোর্ট আর এমআরআই রিপোর্ট দেখাতে শুরু করি, তাহলে আর বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না।”
সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে ৫ বছর আগে তাঁর বেশ কিছু মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। আর তাতেই SSKM কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছেন মমতার আইনজীবী। তাঁর প্রশ্ন, গোপনীয়তা ভেঙে মেডিক্যাল রিপোর্ট ফাঁস কেন? এসএসকেএমের ডিরেক্টর, সুপার ও বিভাগীয় প্রধানকে আইনি চিঠি ধরান মমতার আইনজীবী।
সে প্রসঙ্গে এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ভুল করছেন উনি। ওটা তো (ওই চিঠি) স্বাস্থ্য দফতরে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতে বলব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেস করেছিলেন, সেটা সিআইডি নিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে SSKM-এ কোনও নথি পাওয়ার কথা নয়।” তখনই তিনি বলেন, “ওঁকে ওতো ঘাঁটাঘাঁটি করতে মানা করুন, এক্স রে রিপোর্ট আর এমআরআই রিপোর্ট দেখাতে শুরু করি, তাহলে আর বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “উনি নিজেকে পাবলিকলি করেছেন। এফআইআর করেছেন বিজেপি নেতাদের নামে। প্রয়োজন হলে আমি বলে দেব কাগজটা কোথা থেকে পেয়েছি। কিন্তু কাগজটা PG-তে ছিল না। PG-তে থাকার কথা নয়। উনি নিজেই ওনার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে মামলা করেন। উনি এখানে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আসবেন ভেবেছিলেন। আর উনি নিজে ওনার ড্রয়ারে অনেক কাগজ ছিল। সব কাগজ বের করে নিয়ে যেতে পারেননি।”
একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রচারে বেরিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। হুইলচেয়ারে বসে প্রচার সেরেছিলেন। নন্দীগ্রামে বুথেও হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। গত শনিবার নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর প্রচার থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, একুশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার ঘটনা নাটক ছিল ৷ আর তার পরেরদিন রবিবার মমতার ‘মেডিক্যাল রিপোর্ট’ হাতে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু ৷