
কলকাতা: রাজ্যসভায় প্রার্থী তালিকায় এবার বড় চমক রখেছে তৃণমূল। রাজ্যসভায় তৃণমূল প্রার্থী করছে প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারকে। প্রার্থী হচ্ছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, গায়ক বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরু স্বামী। আর কোনও জল্পনা নেই, একেবারে ঘোষণা করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকিদের সঙ্গে বঙ্গবাসী পরিচিত, তবে মেনকা গুরুস্বামীর নামটা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বাংলার জনগণের কাছেও একটু অপরিচিত।
মেনকা গুরুস্বামী হায়দরাবাদের বাসিন্দা। কিন্তু কর্মসূত্রে বর্তমানে দিল্লিতে থাকেন। মেনকা একজন বিশিষ্ট ভারতীয় আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট। তিনি সংবিধানিক ও বাণিজ্যিক মামলায় বিশেষ দক্ষতার জন্য পরিচিত এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলায় সওয়ালও করেছেন। বর্তমানে জাতিসংঘ (UNDP, UNICEF)-এর মানবাধিকার পরামর্শদাতা। এছাড়া নেপালের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন। ইয়েল, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, কলোম্বিয়া ও টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসাবে পড়ান।
শিক্ষাগত যোগ্যতা-
ন্যাশনাল ল’ স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, বেঙ্গালুরু থেকে বিএ এলএলবি করেছেন। এরপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডি.ফিল, এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুল থেকে এলএল.এম (LL.M) করেছেন। এলজিবিটিকিউ অধিকার সংক্রান্ত ঐতিহাসিক রায়সহ একাধিক সাংবিধানিক মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ভারতের LGBTQ অধিকার সংক্রান্ত ঐতিহাসিক ৩৭৭ ধারা (Section 377) মামলার অন্যতম প্রধান আইনজীবী ছিলেন তিনি।
সম্মান ও স্বীকৃতি-
২০১৯ সালে টাইম ১০০ জন সবথেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি (TIME 100 Most Influential People) তালিকায় তাঁর নাম ছিল। ওই বছরই Foreign Policy – Global Thinkers List-এও স্থান পান। অক্সফোর্ডের রোডস হাউসে (Rhodes House)-এ তাঁর প্রতিকৃতি স্থাপিত রয়েছে।
কিন্তু বাংলার সঙ্গে তাঁর যোগ কোথায়?
আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় ইডি-র বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেছিলেন। বছরের শুরুতেই কয়লা দুর্নীতি মামলায় ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। সে সময়ে নজিরবিহীনভাবে তল্লাশির মাঝেই পৌঁছে গিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশি মাঝে তাঁকে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তল্লাশির নামে তৃণমূলের ভোটের স্ট্র্যাটেজি হাতিয়ে নিতে এসেছিল ইডি। আর সেক্ষেত্রে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে আঙুল তুলেছিলেন মমতা। এই ঘটনার জল অনেক দূর গড়ায়। ইডি ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মামলা করা হয়েছিল। ইডি-র বক্তব্য ছিল, তল্লাশির মাঝে নিজের ক্ষমতা বলে অনৈতিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে ইডি-র অভিযোগের তালিকায় নাম ছিল বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক ও সরকারি আধিকারিকেরও।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা ওঠে। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তিনি এজলাসে ইডি-র অনুসন্ধান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেছিলেন প্রতিপক্ষকে। তাঁকেই এবার রাজ্যসভায় সাংসদ হিসাবে পেতে চায় তৃণমূল।