
কলকাতা: আলুর দাম পাচ্ছেন না। গত কয়েকদিনে এই নিয়ে আলু চাষিরা দুশ্চিন্তায়। এই পরিস্থিতিতে আলু চাষিদের সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানালেন, আলু চাষিদের জন্য লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্যবারের মতো এবারও ‘আলু সংগ্রহ’ প্রকল্প চালু রাখা হয়েছে।
আলু চাষিদের বক্তব্য, আলুর দাম বস্তা (৫০ কেজি) প্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকার উপরে উঠছে না। রাজ্যজুড়ে আলু চাষিদের মধ্যে আলুর দাম নিয়ে হাহাকার পড়েছে। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে কুইন্টাল পিছু ৯৫০ টাকা করা হয়েছে। আমাদের সমবায় দফতরের হিমঘর-সহ রাজ্যের প্রায় সমস্ত হিমঘর এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। রাজ্যের হিমঘরে ছোট আলু চাষিদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত আছে।”
আলু চাষিদের আরও অভিযোগ ছিল, ভিনরাজ্যে আলু পাঠানো যাচ্ছে না। এই নিয়ে এদিন মমতা জানান, আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত না করে অন্য রাজ্যে আলু রফতানি করতে চাইলে, রাজ্য সরকার কৃষকের স্বার্থে তাতে কোনও বাধা দেবে না। আলুর ক্ষেত্রে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে রাজ্যের উৎসাহই রয়েছে বলে জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “বাংলার কৃষকের স্বার্থে আমাদের রাজ্য সরকার দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।”
এদিকে, চাষিরা আলুর দাম না পাওয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। দিন তিনেক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের রাঙামাটি গ্রামের রাখাল আড়ি নামে এক ভাগ চাষি আত্মঘাতী হন। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। আলুর দাম না পাওয়ায় পারিবারিক অশান্তিতে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। শনিবার ব্রিগেডে বিজেপির সভা থেকে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আবার রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপি সরকার এলে আলুর দাম পাবেন চাষিরা।”