
কলকাতা: দিন কয়েক আগে সিউড়িতে গিয়ে থানায় থানায় কালীমূর্তি বসাতে বলেছিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee)। শুধু তাই নয়, থানায় থানায় কালীপুজো (Kali Puja) করার অনুরোধও করেছিলেন তিনি। তবে, তাঁর এই থানায় থানায় কালীপুজো করার কথায় তৈরি হয় বিতর্ক। এবার এই নিয়ে মুখ খুলেছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কেন তিনি কালীপুজো করার কথা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা দিলেন মন্ত্রী।
উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ থানায় থানায় কালীপুজো করা। আজন্মকাল থানায় থানায় কালীপুজো হয়ে আসছে। এই প্রসঙ্গ তুলে একযোগে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন। বলেন, “সংবিধানের থার্ড শিডিউলে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ কী নিয়েছিলাম? আমি ঈশ্বরের নামে শপথ করিতেছি বিধি দ্বারা স্থাপিত সংবিধানের প্রতি আমি আস্থা ও আনুগত্য প্রকাশ করিব। তাহলে সংবিধানের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য আমি কার উপর ভরসা করে নিলাম? ঈশ্বরের উপর ভরসা করে তো? পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ থানায় কালীপুজো করা। আজন্মকাল থেকে থানায় থানায় কালীপুজো হয়ে আসছে। জ্যোতি বসু যতদিন মুখ্য়মন্ত্রী ছিলেন এই নিয়ে কারও কোনওদিন আগ্রহ ছিল না। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন আলাদা সংখ্যালঘু দফতর করলেন, মুসলমান ভোট চলে যাচ্ছে বলে মুসলিম তোষণ করলেন, তখন উনি বললেন থানায় কালীপুজো করা যাবে না।”
জগন্নাথের মন্তব্য, পুলিশকে এবার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। বলেন, “গত কালীপুজোয় আমরা কী দেখেছি? মা কালীকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলছে। আর এটা পরের বছরের কালীপুজো। সনাতনী বাঙালি প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে সনাতনী সরকারকে। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে তো সেই প্রায়শ্চিত করতে হবে। মা কালীকে তাঁরা গতবার প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন। এবারে কালীপুজোয় থানায় থানায় পুজো করে সেই প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এই তিনটি কারণেই বলেছিলাম থানায় থানায় কালীপুজো করতে। প্রতি থানায় এমনিতেই কালীপুজো হয়। বুদ্ধ ভট্টাচার্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, এই দুইয়ের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ থানায় কালীপুজো করুক।”
সিউড়িতে পুলিশের অনুষ্ঠান থেকে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন,”প্রত্যেক থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজো হোক। রঘু ডাকাতও কিন্তু ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা কালীর পুজো করে যেতেন। বাঙালির সংস্কৃতিতে যেমন স্কুলে সরস্বতী পুজো রয়েছে,…পুলিশ সংস্কৃতির অঙ্গ কালীপুজো করানো। এটার মধ্যে ধর্মাচার নেই।” অন্তত শক্তিপীঠ বীরভূমের থানাগুলিতে কালীপুজো করার ও কালীমূর্তি রাখার আবেদন করেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, ““থানায় কালীমূর্তি থাকা দরকার। চোর যখন থানায় ঢুকবে, তখন মনে মনে বলবে মা যেন ছাড়া পাই। আর পুলিশ যখন বেরোবে, তখন প্রার্থনা করবে, আসামি যেন ধরা পড়ে।”