
কলকাতা: ১৫ বছর পর রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমবার বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, পদ্মশিবির কি এবার সংখ্যালঘুদের ভোটও পেয়েছে? সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে ভেদাভেদ হবে কি না, সেই জল্পনাকেও খারিজ করে দিলেন। কী বললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি?
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে শমীক বলেছিলেন, “এই নির্বাচনে ক্ষমতায় না এলে আমরা পার্টি করতে পারব না।” সেকথা উল্লেখ করে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “আমি তো প্রকাশ্যে বলছি, এই নির্বাচন ছিল হিন্দু বাঙালির জন্য শেষ নির্বাচন। এবং প্রগতিশীল, মুক্তমনা, শিক্ষিত মুসলমানের জন্য শেষ নির্বাচন ছিল।”
মুক্তমনা, প্রগতিশীল, শিক্ষিত মুসলমানের ভোট কি এবার পেয়েছে বিজেপি? এই নিয়ে শমীকের বক্তব্য, “এই নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করছি না।” এরপরই অবশ্য তিনি বলেন, “একদম সংখ্যালঘুরা একটাও ভোট দেননি, এটা আমি বিশ্বাস করি না। সংখ্যালঘুরা সমর্থন করেছেন তো।”
শমীকের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা একটা বার্তা দিতে চেয়েছিলাম। পশ্চিমবঙ্গে একটা ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল, ২৫-৩০ শতাংশ যে মুসলিম ভোট রয়েছে, সেটা নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। তারাই এখানে রাজনৈতিক শক্তির পরিবর্তনের নিয়ম হবে। সেটা যে হয় না, সেই বার্তা দিয়ে চেয়েছিলাম।” সংখ্যালঘুদের ভোট না পেয়েও ক্ষমতায় আসা যায়, সেই বার্তাই তাঁরা দিতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংখ্যালঘুদের বার্তা শমীকের-
সংখ্যালঘুদের বার্তা দিয়ে শমীক বলেন, “আমি প্রথমদিনই সমস্ত সংখ্যালঘুর কাছে আবেদন করেছিলাম, বিজেপি তোমাদের শত্রু নয়। আমাদের রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। আমাদের লড়াই কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের লড়াই জেহাদিদের বিরুদ্ধে। মৌলবাদের বিরুদ্ধে।” একইসঙ্গে হিন্দুদের একাংশকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “একটা সংখ্যক হিন্দুও যদি মনে করেন, আমরা উগ্রতা দেখাব, আমরা ত্রিশূল নিয়ে রাস্তায় ছোটাছুটি করব, আমরাই পরবর্তী সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করব, সেটাও হবে না।”
‘উন্নয়ন নিয়ে ভেদাভেদ নয়’
উন্নয়ন নিয়ে কোনও ভেদাভেদ হবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়ে শমীক বলছেন, “আমার শুধু এটাই বার্তা, আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে দেখি। আমাদের রাজনীতি বিভাজনের রাজনীতি নয়। আমরা যা করব পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য করব। কোনও হিন্দুর জন্য আলাদা কিছু নয়। কোনও মুসলমানের জন্য আলাদা কিছু নয়।” এবারের নির্বাচনে বিজেপি কোনও সংখ্যালঘু প্রার্থী দেয়নি। স্বাভাবিকভাবে বিজেপির মন্ত্রিসভায় কোনও সংখ্যালঘু মুখ থাকছে না। তাতে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে কোনও সমস্যা হবে না জানিয়ে শমীক বললেন, “সংখ্যালঘু না হয়েও সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করা যায়।”