
কলকাতা: রাজ্য প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের অধীনস্থ মাদার ডেয়ারি সম্প্রতি তাদের দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবং গুণমান বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ ঠিক কতটা? গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
দিলীপ বলেন, “দাম বাড়বে। আনুষঙ্গিক পণ্যের দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে দুধের কোয়ালিটি যাচাই করতে হবে।” তিনি জানান, “মাঝে একবার কোয়ালিটি পরীক্ষা হয়েছিল। অনেকগুলো প্রোডাক্ট পাস করতে পারেনি। দুধ স্বাস্থ্যের জন্য খাওয়া হয়। নানারকম কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে। এগুলো কতটা ক্ষতিকারক সেটাও যাচাই হবে। যথাসম্ভব কম মূল্যবৃদ্ধি করে গুণমানে নজর দেব। আগের সরকারের উদ্দেশ্য জনহিত ছিল না। আমরা সেটাও চেষ্টা করব।”
মাদার ডেয়ারির ৬ ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়বে ঠিকই, সে কথা স্বীকার করছেন মন্ত্রী নিজেও। কিন্তু তাঁর দাবি—আনুষঙ্গিক খরচ ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিনের প্রায় ৫৫ লক্ষ লিটার দুধ উৎপাদনের যে বিপুল কর্মযজ্ঞ চলে, সেখানে এই মূল্যবৃদ্ধি বড় কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, বাজারে যোগান সচল রাখতে এবং চাষিদের ন্যায্য মূল্য দিতে এই সমন্বয় প্রয়োজন ছিল।
দুধ একটি অত্যাবশ্যকীয় ও পুষ্টিকর পানীয়। তবে সম্প্রতি কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, বেশ কিছু দুগ্ধজাত পণ্য গুণমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। দুধে রাসায়নিক মিশ্রণ বা ভেজালের অভিযোগ জনস্বাস্থ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সে কথাও বারবার উল্লেখ করেন মন্ত্রী। দুধে ফরমালিন বা ইউরিয়ার মতো কেমিক্যাল মেশানো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দফতর আশ্বস্ত করেছে যে, গুণমান যাচাইয়ের কাজ নিয়মিত করা হবে। আগের খামতিগুলো শুধরে নিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে নিরাপদ দুধ পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান লক্ষ্য।