
কলকাতা: এই বছরটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূলের জন্য একটু আলাদা। নেই সেই ঝাঁ চকচকে ‘জাগো বাংলার’ উদ্বোধন। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেই নমো-নমো করে ‘জাগোবাংলার’ (Jago Bangla) উৎসব সংখ্যা প্রকাশ হল। আর সেই উদ্বোধন করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একই সঙ্গে যাঁরা এবার উদ্বোধনে থাকলেন না, তাঁদেরও কটাক্ষ করতে ভুললেন না ডায়মন্ড-হারবারের সাংসদ।
দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের সামনে বামপন্থীরা বরাবর স্টল দিয়ে থাকে। এরপর তৃণমূল ক্ষমতায় আসতে দেখা যেত মণ্ডপের পাশে জাগো বাংলার স্টল। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতা-গল্পের বই, শারদসংখ্যা কী কী না থাকত। অতীতের কথা মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, “যাঁরা মঞ্চ আলো করে ‘জাগো বাংলায়’ বসতেন তাঁরা নেই। যারা দুর্গা সেজে মঞ্চ আলোকিত করে মহিষাসুরমর্দিনী করতেন তাঁরাও আজ কেউ নেই। ধন্যবাদ জানানো উচিত এই সৌগত রায়কে। যিনি আমাদের সঙ্গে আজও রাস্তায় আছেন।”
এরপর তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যাঁরা ভালো সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে কাউকে ঘেঁসতে দিত না। পারলে আমাকে কনুই মারত। তাঁরা আজ কোথায়? একটা এফআইআর হওয়ার আগেই তাঁরা চলে গিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর। হয়েছে আমিতো আছি। যে দল পরিচিতি দিল, কাজ করার সুযোগ দিল। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক হলেন আজ তাঁরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।”
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বড় বড় সাংসদ-বিধায়ক তো বটেই মমতার হাত ছেড়েছেন একাধিক কচিকাচা নেতারাও। সেই সময় বহু নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে। শেষের দিকে নাকি দলের হত্তা-কত্তা-বিধাতা সব অভিষেক হয়ে উঠেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতেন না। এই আবহের মধ্যেই অভিষেক এবার যাঁরা ছেড়ে গিয়েছেন, পাল্টা আক্রমণ শানালেন।