
কলকাতা: প্রার্থী নিয়ে শাসকদলের অন্দরে একাধিক জায়গায় ক্ষোভ। চলছে বিক্ষোভ। এবার রাশ ধরতে হল খোদ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাশকুড়ার সভা থেকে দিলেন বার্তাও। তিনি স্পষ্ট বললেন, ‘টিকিট পাননি বলে বিরোধিতা, এটা মোটেই ঠিক নয়।’ নতুনদেরও সুযোগ দেওয়ার বার্তা দিলেন তিনি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। পুরনোদের যথাযথ সম্মান দিয়ে কাজে লাগাবে দল।
মমতা বলেন, “অনেক জায়গাতে আমরা আগের প্রার্থীকে টিকিট দিতে পারিনি। কারণ কখনও কখনও বদলাতে হয়। অন্যদেরও সুযোগ দিতে হয়। মেয়েদেরও সুযোগ দিতে হয়, সংখ্যালঘুদেরও সুযোগ দিতে হয়। যদি কেউ মনে করেন, আজীবন আমি একা থাকব, আর কেউ থাকবে না, এটা মনে করা ভুল। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। দলটা সবার জন্য। ভাল কাজ করুন, টিকিট পাবেন, মানুষের সঙ্গে থাকবে পাবেন। আর যে মানুষের কাজ করবেন না, দলকে তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সম্মান দিয়েই বলছি, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন, টিকিট পাননি বলে এমন নয় যে বিরোধিতা করতে হবে।”
এরপর তিনি নিজেই জানান, সংখ্যালঘুদের প্রার্থী করা নিয়ে কোথাও কোথাও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আর এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই পাশকুড়ার তিনি বলেন, “কোনও ভেদাভেদ নেই কিন্তু, ভাববেন না সিরাজ খান মুসলমান প্রার্থী। কেউ কেউ অপপ্রচার করবে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ওদের দলের নেতা হই, তাহলে আমার কাছে হিন্দুও থাকবে, মুসলমানও থাকবে, শিখও থাকবে, সবাই থাকবে। কই কোনওদিন মুসলিমরা প্রশ্ন করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে, কেন তাঁকে আমরা মুখ্যমন্ত্রী করব। কোনও দিনও প্রশ্ন করেছে, তা যদি না করে, তাহলে সংখ্যালঘু প্রার্থী হলে, হিন্দুরা কিন্তু মুখ ফিরিয়ে নেবেন না, তাহলে আমার সবচেয়ে বেশি অসম্মান হবে। তার কারণ প্রত্যেকটা সিট আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বেশ কিছু জেলায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। ১৭ই মার্চ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে এই অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। তৃণমূলের এবারের তালিকায় প্রায় ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তাঁদের অনুগামীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পথে নেমেছেন। অনেক পুরনো এবং অভিজ্ঞ নেতাকে সরিয়ে তরুণ বা নতুন মুখ নিয়ে আসায় দলের একাংশ মেনে নিতে পারছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য কেন্দ্র থেকে প্রার্থী আনায় ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে প্রতিবাদ চলছে।
গতকালও মুর্শিদাবাদের নওদায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগেও বিক্ষোভ হয়। ব্লক সভাপতিকে প্রার্থী না করায় তাঁর অনুগামীরা সভা শুরুর আগেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। চেয়ার ভাঙচুরও হয়। মঞ্চে বক্তৃতা রাখার মাঝেই বিক্ষুব্ধকারীদের ‘ওয়ার্নিং’ দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমার কিন্তু সবার ওপর নজর রয়েছে। যদি কেউ ভাবে বিশৃঙ্খলা করব, দলকে চাপে রাখার জন্য, আপনাদের কিন্তু দল ক্ষমা করবে না। সবাইকে ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত কোনও পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার নয়।”