
কলকাতা: ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। এখনও অবশ্য নতুন সরকার গঠন হয়নি। তার আগেই নবান্নের বড় নির্দেশ। অবসরের পরও দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বুধবার থেকে অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সচিবরা নিজের নিজের দফতরে মৌখিকভাবে এই নির্দেশ জারি করেছেন। লোক ভবন থেকে আসা এই নির্দেশ মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা সব দফতরের সচিবদের জানিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে। এদিকে, তৃণমূলের পরাজয়ের পরই একাধিক অবসরপ্রাপ্ত আমলা সরকারের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
ইস্তফা দিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ পন্থরা-
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় দেখা গিয়েছে, বহু আমলাকে অবসরের পর নানা পদে বসানো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যের মুখ্যসচিব ছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, মনোজ পন্থ। তাঁদের অবসরের পর নানা পদে বসান মমতা।
অবসরের পর আলাপন ও হরিকৃষ্ণকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। অবসরের পর মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিব পদে বসেন মনোজ। নবান্ন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার এই তিনজন তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অবসরের পর আরও যেসব আধিকারিক নানা দায়িত্বে রয়েছেন, এদিন থেকে তাঁদের অফিসে আসতে নিষেধ করে দিল নবান্ন।
এদিকে দুটি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অর্থনীতি অভিরূপ সরকার। মমতার সরকারে দুটি পদে ছিলেন এই অর্থনীতিবিদ। শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তৃণমূলের পরাজয়ের পর এই দুই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিরূপ সরকার। এই অর্থনীতিবিদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের বড় অংশের ক্ষোভ ছিল। ২০১৩ সালে রাজ্য সরকার যে চতুর্থ অর্থ কমিশন গঠন করেছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন অভিরূপ সরকার।