
কলকাতা: নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে স্বস্তিতে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ (BJP Candidate Hasi Rani Rath)। মনোনয়নে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যার জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করে কংগ্রেস (Congress)। সেই মামলা এবার খারিজ করে দিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর সিঙ্গল বেঞ্চ। বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় গত শুক্রবার। শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর সিঙ্গল বেঞ্চ। অবশেষে আজ হাইকোর্টের রায়ে স্বস্তিতে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ।
বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, তাঁর জন্ম সাল মোটামুটি ১৯৬৫। একইসঙ্গে এও উল্লেখ করেছেন, ১৯৬৫ সালে চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠ স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, জন্মেই কি করে বিজেপি প্রার্থী দশম শ্রেণির ছাত্রী হলেন? বিতর্ক এখানেই শেষ নয়, ওই স্কুল ১৯৬৩ সালে পথ চলা শুরু করে। ১৯৬৩ সালে ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হত। ১৯৭৩ সালের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সরকারি অনুমোদন পায় ওই স্কুল।
হাসিরানি রথের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কংগ্রেস আইনজীবীদের অভিযোগ, মনোনয়নে হাসিরানির যে বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে মাধ্যমিক সার্টিফিকেটের কোনও মিল নেই। সেক্ষেত্রে বয়স ভুল দেওয়া হয়েছে কিংবা জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছে। এমনই অভিযোগ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মিথ্যে তথ্য দেওয়া হলে, মনোনয়ন বাতিলের অধিকার থাকে রিটার্নিং অফিসারের। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার কেন তা করেননি, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের আইনজীবী। পাল্টা কমিশনের বক্তব্য হল, মনোনয়ন স্ক্রুটিনির সময় কেন অভিযোগ করা হয়নি? মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশনার। সব পক্ষের শুনানির পর রায়দান স্থগিত রাখেন কলকাতা হাইকোর্ট বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
আজ মামলার শুনানিতে কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। অর্থাৎ কমিশনের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করল না আদালত। এর ফলে নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দানে বড়সড় স্বস্তি পেল বিজেপি।